Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেন রায়হান

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় প্রবাস

জেজুর চা বাগানে সিলেটের স্মৃতি

আসিফ খান
agamir somoy
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ২২:১৪
জেজুর চা বাগানে সিলেটের স্মৃতি

লেখক

দক্ষিণ কোরিয়ার বুকে প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়ের নাম জেজু আইল্যান্ড। আগ্নেয়গিরির লাভায় গড়ে ওঠা এই দ্বীপ নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড়, জলপ্রপাত, লাভা পাথর আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বহুদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে স্বপ্নের এই দ্বীপে পা রাখলাম। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই সকালের নাশতা সেরে একটি ট্যাক্সি নিয়ে রওনা হলাম প্রথম গন্তব্য হামদক বিচের উদ্দেশে।

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে বিচে পৌঁছাতে পৌঁছাতে শরীর ঘামে ভিজে একাকার। কিন্তু সাগরের স্বচ্ছ নীল পানি চোখে পড়তেই মুহূর্তেই সব ক্লান্তি মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ সমুদ্রের ধারে হাঁটলাম, সাগরের বাতাস গায়ে মেখে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করলাম। বিচের পাশেই বিখ্যাত ডেলমন্দো ক্যাফে। স্থানীয়দের পাশাপাশি অসংখ্য বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছিল, জেজুর সৌন্দর্য শুধু কোরিয়ানদের নয়, বিশ্বের মানুষেরও প্রিয়।

হামদক বিচ থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল উ-দো দ্বীপ। কিন্তু ভুলবশত সংসানপো পোর্টের বদলে পৌঁছে গেলাম জংদাল পোর্টে। প্রথমে কিছুটা হতাশ লাগলেও চারপাশের দৃশ্য দেখে সেই হতাশা দ্রুতই কেটে গেল। কোরিয়ান সিনেমায় দেখা মনোমুগ্ধকর ল্যান্ডস্কেপ যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিল চোখের সামনে। চারদিকে নির্জনতা, সাগরের বাতাস আর সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধন এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো কোরিয়ানদের বহুল ব্যবহৃত শব্দ, ‘চিনচা!’ অর্থাৎ, সত্যিই অবিশ্বাস্য।
ছবি- লেখকজেজুর এই এলাকায় হালাল খাবারের স্বল্পতা থাকায় বাসা থেকে গরুর মাংসের তেহারি রান্না করে নিয়ে গিয়েছিলাম। পোর্টের পাশের একটি বিশ্রামস্থলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল। সেখানেই দুপুরের খাবার সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। পরিকল্পনার বাইরে পাওয়া এই ছোট্ট জায়গাটিই শেষ পর্যন্ত ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর স্মৃতিতে পরিণত হলো।

এরপর দ্রুত ট্যাক্সিতে সংসানপো পোর্টে পৌঁছে ফেরিতে চড়ে বসলাম। প্রায় আধা ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে পৌঁছে গেলাম উ-দো দ্বীপে। নেমেই একটি সাইকেল ভাড়া করে কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখলাম। বাতিঘর, সবুজ প্রান্তর, স্থানীয় বাড়িঘর আর সমুদ্রঘেরা পথ মিলিয়ে উ-দো যেন এক শান্ত স্বপ্নের দ্বীপ। সাইকেলে ঘুরে প্রকৃতিকে এত কাছ থেকে অনুভব করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম।

উ-দো থেকে ফিরে বিকেলের দিকে রওনা হলাম ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সিওংসান ইলচুলবংয়ের দিকে। পৌঁছানোর আগেই আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়েছিল। পাহাড়ি পথ ধরে ওপরে উঠতে উঠতে যতবার পেছনে তাকিয়েছি, ততবারই মনে হয়েছে জেজুতে আসার সিদ্ধান্ত সত্যিই সার্থক। চূড়ায় পৌঁছে চারদিকে সমুদ্র আর পাহাড়ের অপূর্ব মিলন চোখে ভাসছিল। ঠিক তখনই ফিলিপাইনের এক নারী পর্যটক আন্তরিকভাবে আমার একটি ছবি তুলে দিলেন। ছোট্ট এই সৌজন্য ভ্রমণের স্মৃতিকে আরও সুন্দর করে দিল।
পেছনে ঝরনা মনোমুগ্ধকর

এরই মধ্যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উইন্ডব্রেকার ভিজে যাচ্ছে, শরীরও বেশ ক্লান্ত। পাহাড় থেকে নেমেই সঙ্গে থাকা একটি রুটি খেয়ে কিছুটা শক্তি ফিরে পেলাম। সারাদিনের হাঁটাহাঁটি আর পাহাড়ে ওঠানামার পর সেই সাধারণ রুটিটিও তখন যেন অসাধারণ সুস্বাদু মনে হচ্ছিল। এরপর দিনের ভ্রমণ শেষ করে রাত কাটানোর জন্য রওনা হলাম সোগুইপোর উদ্দেশে।

পরদিন সকালে নাশতা শেষে চলে গেলাম জংবাং জলপ্রপাতে। বাংলাদেশের অনেক জলপ্রপাত দেখতে যেখানে দীর্ঘ ট্রেকিং করতে হয়, সেখানে কোরিয়ায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিত অবকাঠামো। জংবাংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কোরিয়ার একমাত্র জলপ্রপাত, যার পানি সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে। ব্যাগ লকারে রেখে নিশ্চিন্তে নিচে নেমে জলপ্রপাতের গর্জন আর সমুদ্রের মিলন উপভোগ করলাম। ফিরে এসে ঠান্ডা ডাবের পানি পান করে ক্লান্তি দূর করলাম। সেখানেই ব্রিটেন থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হলো। তারা জানালেন, গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে জেজুতে এসেছেন এবং দ্বীপটি তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে।

এরপর রওনা হলাম সানবাংসানের দিকে। পথজুড়ে জানালার বাইরে কমলার বাগান আর পাহাড় দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, পুরো জেজুই যেন একটি জীবন্ত পোস্টকার্ড। দূর থেকে পাহাড়টিকে যতটা ছোট মনে হয়েছিল, কাছে গিয়ে তার বিশালতা দেখে সত্যিই বিস্মিত হলাম।

সানবাংসানের পাদদেশে দাঁড়িয়ে হঠাৎ আমাদের দেশের চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা মনে পড়ে গেল। আমিও চন্দ্রনাথে উঠেছি। তবে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ল। কোরিয়ার পাহাড়ি পর্যটন ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি পরিকল্পিত ও গোছানো। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই হাঁটার পথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার এবং পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তখন মনে হলো, আমাদের চন্দ্রনাথের মতো অসাধারণ প্রাকৃতিক স্থানগুলোও যদি একইভাবে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা যেত, তাহলে সেগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারত।

সেখান থেকে চলে গেলাম ও’সুলক টি মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে বুঝলাম, চাকে কেন্দ্র করে কত বৈচিত্র্যময় একটি পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়। বিভিন্ন ধরনের চা, কফি, কেক, প্রসাধনী, সুগন্ধি, স্মারকসামগ্রী, এমনকি লাভা থেকে তৈরি পণ্যও সেখানে বিক্রি হচ্ছিল। দর্শনার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

চায়ের বাগানের দিকে এগিয়ে যেতেই মনে হলো, যেন বাংলাদেশের সিলেটে চলে এসেছি। বিস্তীর্ণ সবুজ চা বাগান নিজের দেশকেই মনে করিয়ে দিল। তখন মনে হলো, আমাদের দেশেও তো সিলেটজুড়ে অসাধারণ চা বাগান রয়েছে। চাইলে সেখানে বিশ্বমানের একটি চা জাদুঘর গড়ে তোলা সম্ভব। যেখানে বাংলাদেশের চা শিল্পের ইতিহাস, বিভিন্ন অঞ্চলের চায়ের বৈচিত্র্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং নানা ধরনের চায়ের পরিচিতি তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে দেশীয় চায়ের কার্যকর প্রচার ও বিপণনের সুযোগও তৈরি হবে। এমন একটি উদ্যোগ পর্যটন ও চা শিল্প, দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
ছবি লেখকের সৌজন্যেক্লান্তি দূর করতে সেখানে কোরিয়ার বিখ্যাত ট্যাংগারিন বিংসু খেলাম। তারপর কিছুক্ষণ চা বাগানের ভেতর হাঁটলাম। জেজুর সবুজের ভেতর দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষকে শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়ের কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

দিনের শেষ গন্তব্য ছিল এওল ক্যাফে স্ট্রিট। স্থানীয় ট্যাংগারিন চকলেট, জেলি, নাটস ও কিছু স্মারক কিনে সমুদ্রের ধারে হাঁটতে শুরু করলাম। লাভা পাথরের কালো উপকূল আর নীল সমুদ্রের অপূর্ব বৈপরীত্য যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। প্রতিটি ক্যাফের আলাদা বৈশিষ্ট্য। কোথাও কাঁচের দেয়াল দিয়ে সমুদ্র দেখা যায়, কোথাও বাইরে বসে ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়, আবার কোথাও সাদা বালুর ওপর বসে কফির কাপ হাতে শেষ বিকেল উপভোগ করা যায়।

শেষ বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল। ক্যাফে স্ট্রিটের মোহময় পরিবেশ পেছনে ফেলে বিমানবন্দরের পথে রওনা হলাম। নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিং শেষ করে রাতের ফ্লাইটে ফিরে এলাম বুসানে।

দুই দিনের এই ভ্রমণ শুধু কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার গল্প নয়। এটি ছিল প্রকৃতিকে নতুন করে আবিষ্কার করার, একটি দেশের পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার এবং একই সঙ্গে নিজের দেশের সম্ভাবনাকে নতুন চোখে উপলব্ধি করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জেজু পেছনে রয়ে গেল, কিন্তু তার নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর অগণিত স্মৃতি দীর্ঘদিন হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, দংইউ বিশ্ববিদ্যালয়, বুসান, দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়াজেজু আইল্যান্ডভ্রমণ
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১৯ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    ২০ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    স্পেন
    ০
    advertisement
    advertisement
    ঢাবিতে শিবিরের কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল চুরি

    ঢাবিতে শিবিরের কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার আরমানের মোবাইল চুরি

    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০৪

    ঢাবি এলাকায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধর-ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ঢাবি এলাকায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধর-ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১১

    ইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ

    ইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ

    ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯

    advertiseadvertise