বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না সরকার
- সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই সরকারের নীতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে— এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সব বৌদ্ধধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বুদ্ধপূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি আপনাদের জন্য হয়ে উঠুক আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বুদ্ধপূর্ণিমা বৌদ্ধদের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব। আগামীকাল শুক্রবার পালিত হবে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা জানি, পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।
‘প্রত্যেক নাগরিকই যে যার ধর্মীয় রীতিনীতি ও অধিকার বিনা বাধায়, স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে— এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবার একই কথা বলতে চাই— ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে— এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার-আপনার-আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা, ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব।



