এক বছরেই কমানো সম্ভব জ্বালানি সংকট
- দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট
- গ্যাস থেকে উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে যখন দেশের মানুষ দিশাহারা, তখন সরকারের নানা পর্যায় থেকে আসছে এ থেকে উত্তরণের সময় নিয়ে বক্তব্য। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানালেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকেই এবারের সংকট, যা থেকে উত্তরণে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। এর আগে গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন একই সময়সীমার কথা। তবে বিশেষজ্ঞ ও খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং আগামীর সময়ের নিজস্ব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই সংকট কমানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু উদ্যোগের বাস্তবায়ন।
সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পর গ্যাস সরবরাহ বাড়লে সংকট অনেকখানি কমে আসবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে সাময়িক দুর্ভোগ কমলেও উল্টো বাড়বে দীর্ঘমেয়াদি সংকট। তার চেয়ে কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই সমাধান মিলবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘অর্থ থাকলেই সবকিছুই করা সম্ভব। পাশাপাশি সাশ্রয়ীও হতে হবে।’
গত দেড়-দুই দশকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে অনেক লুণ্ঠনমূলক, অন্যায্য ও অসংগত ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। তিনি পরামর্শ দিয়ে বললেন, ‘এগুলো পর্যালোচনা করে ছেঁটে ফেললে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি হলে সরকারকে আর নতুন করে ভর্তুকি দিতে হবে না এবং ঘাটতি কমে আসবে। এলএনজি বা প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি সরকারের সাশ্রয়ের ভেতরে চলে আসবে।’
এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক প্ল্যান্ট বন্ধ করে, জ্বালানি দক্ষতা ২০ শতাংশ এবং গ্রিড বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সাশ্রয় নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলেও উল্লেখ করলেন।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, সরকারকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। তাহলে নতুন করে আরেকটি এলএনজি টার্মিনালের কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্মে চাহিদা দাঁড়ায় গড়ে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। শীতকালে তা ১০ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামে। দেশের ইতিহাসে গত ২০ মে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। যার মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যায় ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। এতে সেদিন ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। গত ১০ বছরের চাহিদা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো চাহিদা বেড়েছে। সে হিসাবে আগামী বছর গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট এবং ওই সময়ে গড় চাহিদা ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ: বর্তমানে গ্যাস থেকে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী। অবশ্য যদি আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস উৎপাদন করা হয়, তখন এটি কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। গ্যাস থেকে পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দৈনিক প্রায় ২৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। চাহিদামতো গ্যাসের অভাবে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকে। মোটামুটি ১০০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও তা দিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
গতকাল দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ করা হয় ৯৫ দশমিক ৮ কোটি ঘনফুট। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৫ হাজার ৪২৪ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানালেন, দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাস সরবরাহ করা হলে তা দিয়ে ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। গ্যাসের পরই রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকার সময় বাদ দিয়েও কয়লা থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু সেজন্য কয়লার জোগান নিশ্চিত করা দরকার। চলতি বছর কয়লা থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বকেয়ার কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া আগামী মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। শুরুতে ৩০০ মেগাওয়াট এবং পরে ধাপে ধাপে এখান থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। একই সক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। ভারত ও নেপাল থেকেও ২ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে কমবেশি আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। সবগুলো উৎস হিসাব করলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।
এ ছাড়া হাইড্রো পাওয়ার থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং অনগ্রিড সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ থেকে ৮৫৯ মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এগুলো থেকে ন্যূনতম উৎপাদন বিবেচনায় নিলেও ৫০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে নির্মাণাধীন সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আগামী বছরের জুন নাগাদ ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। এর বাইরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আগামী এক বছরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে তেলভিত্তিক (ফার্নেস ওয়েল ও ডিজেল) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এখন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ সক্ষমতা রয়েছে ৭ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ ব্যয়বহুল হওয়ায় উৎপাদন যত কম করা যায়, ততই ভালো। যদিও ময়মনসিংহে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরপিসিএলের ৩৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (গ্যাস/ডিজেল) একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষে গ্যাসের অভাবে বসে আছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রটির দক্ষতা বেশি হওয়ায় এখান থেকে ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এই কেন্দ্রটি চালানোর পাশাপাশি দক্ষতা বেশি— এমন কিছু ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো গেলে সেখান থেকে কমবেশি ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন যোগ করলে সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে। এগুলো ঠিকমতো চালানো গেলে গ্রীষ্মে কিছুটা লোডশেডিং হলেও তা সহনশীল থাকবে।
ব্যবহার কমানো ও সাশ্রয়ী হওয়া: অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, মধ্যরাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখা, সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি, অফিস— সব জায়গায় বিদ্যুতের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কারণে বিপুল পরিমাণ অপচয়ের কথা সবসময়ই বলে আসছেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কথা বারবার তুলে ধরা হয়।
দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে। যেখানে মূলত ফ্যান, লাইট, এসি, ওভেন, বৈদ্যুতিক চুলা, ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ বিদ্যুতে চলে। গরম মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হলো ফ্যান ও এসির ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। এগুলো নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া গেলেও কমবে বিদ্যুতের চাহিদা।
ভারতে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১ ডিগ্রি করে বাড়ালে প্রতি এক ডিগ্রির জন্য সাশ্রয় হয় অন্তত ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ। পাশাপাশি কারখানা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমেও চাহিদা কমানোর সুযোগ রয়েছে।
তবে দেশ জুড়ে ব্যাটারিচালিত অবৈধ থ্রি-হুইলার বন্ধ করা কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সবচেয়ে বড় সাশ্রয় হবে— এমন কথা উঠে এলো কয়েকজন খাতসংশ্লিষ্টের সঙ্গে আলাপে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে এসব যানবাহন চার্জ দিতে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। অবশ্য এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমন সরকারি ঘোষণা আসছে, যেখানে এসব যানবাহন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দিতে হবে। তা না হলে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গ্যাস পরিস্থিতি: সরকারি হিসাবে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হয় গড়ে ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে কমবেশি ১০০ কোটি ঘনফুট আসে আমদানির এলএনজি থেকে। প্রায় এক মাস ধরে শিল্পে ভয়াবহ গ্যাসসংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ। বিকল্প উপায়ে কারখানা চালু করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে অনেকের। তবে শিল্পের গ্যাস বিদ্যুতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমে এসেছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মতামত এসেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে। কেননা গ্যাসের অভাবে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতি বছর দেশীয় কূপ থেকে গড়ে ১৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন কমছে। এটি বিবেচনায় নিলে আগামী এক বছরে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়াবে কমবেশি ২৫০ কোটি ঘনফুট। এই সংকটের মধ্যেও চলছে সিস্টেম লসের নামে গ্যাস চুরি। বর্তমানে গ্যাসের মোট সিস্টেম লস ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস (কারিগরি লোকসান) অনুমোদন করে। বাকি পুরোটাই ‘চুরি’। দৈনিক চুরি যাওয়া গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট। এই চুরি বন্ধ করা গেলে সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। অথচ স্থলভাগে ছয় মাস থেকে দেড় বছরের মধ্যে গ্যাস আবিষ্কার করা সম্ভব। স্থলভাগে অনুসন্ধানে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
সরকারও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি পুরনো কূপ সংস্কার এবং স্থলভাগে অনুসন্ধানে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যার ফলে আগামী এক বছরের মধ্যে কিছু গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।






