যাত্রী কল্যাণ সমিতি
মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৬২২ প্রাণ
- আহত ১ হাজার ৬৫২ জন

ছবি: আগামীর সময়
গত মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৬২২ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫২ জন। আজ শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছে। এই সংখ্যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। মোট নিহতের মধ্যে এটি ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
মে মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৫৮ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে।
মে মাসের দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি গাড়ি শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল। ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ ও লরি। ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস। ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমনসহ থ্রি-হুইলার। ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস এবং ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজি অটোরিকশা।
সবচেয়ে বেশি ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে। গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খাদে পড়েছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
সড়কের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এ ছাড়া ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার রোডে দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্য দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে মহানগরী ও রেলক্রসিংয়ে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল। সড়ক অবকাঠামোর ত্রুটি। রোড সাইন ও ডিভাইডারের অভাব। অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও বেপরোয়া গতি। ভাঙাচোরা সড়ক ও বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কমাতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা। চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা।




