মাহদী আমিন
পাঁচ মাসে ‘বহুমাত্রিক সাফল্য’ পেয়েছে সরকার

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মাহদী আমিন
পাঁচ মাসে সরকার ‘বহুমাত্রিক অভূতপূর্ব সাফল্য’ অর্জন করেছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের অন্যতম মুখপাত্র মাহদী আমিন। তার মতে, এই সময়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে দৃশ্যমান সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীও কথা বলছিলেন একই সুরে। বললেন, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন শুধু মুখে বলার বিষয় নয়; বরং তা কাজের মাধ্যমে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো এসব কথা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ‘পাঁচ মাস পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজন করেছিল এই সংবাদ সম্মেলনের।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বললেন, দেশের মানুষের মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক উন্নয়ন ছাড়া সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেই প্রধানমন্ত্রী এখন গুণগত পরিবর্তনের রাজনীতির ওপর সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন। সরকার তথ্যের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে চায়। আর সে লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন ও জবাবদিহিমূলক কাজগুলো সাধারণ মানুষকে জানাতে মাঠপর্যায়ের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানালেন সালেহ শিবলী।
মাহদী আমিন বললেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই বিএনপির দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। গত ১৫০ দিনে সরকার কেবল সমস্যার সমাধানই করেনি; বরং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এই সরকার এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে।
একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে স্বল্পতম সময়ে স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী করে গড়ে তোলা যেকোনো সরকারের জন্যই নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ— উল্লেখ করলেন মাহদী আমিন। বললেন, এ অবস্থায় মাত্র পাঁচ মাসে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সরকারের পেছনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
সরকারের পাঁচ মাসের সফলতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলছিলেন, ‘এই সফলতাগুলো আমরা মোটা দাগে পাঁচটি বৃহৎ অর্জনে বিভক্ত করতে পারি। এই বহুমাত্রিক অর্জনের পাঁচটি দিক হলো— জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন; ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা; স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনবদ্য সফলতা; জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।’
গত পাঁচ মাসে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট ৯৪টি বিল পাস, অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। আরও জানালেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুততম সময়ে শিশুহত্যা মামলার বিচারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বললেন, জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকসহ প্রতিটি হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে বর্তমান সরকার। তিনি বললেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে; প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন কার্ড দেওয়া হলেও সামনের দিনগুলোয় সমন্বিতভাবে একটি ইউনিভার্সাল কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ নারী। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং উপজেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলছিলেন, বর্তমানে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে এই স্বাধীনতার মধ্যে কিছু মোবাইল সাংবাদিক অপসাংবাদিকতা করছেন। সাম্প্রতিক আন্দোলনকে যারা উসকে দিয়েছেন, যারা এমনটা করছেন— তাদের এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, কে এম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামিরসহ অন্যরা।




