আহমদ ছফার কবরের জায়গা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছিল : সলিমুল্লাহ খান

ছবি: আগামীর সময়
সাহিত্যিক আহমদ ছফাকে ‘রাজনৈতিক কারণে’ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে দাফন করতে গিয়ে ঘুষও দিতে হয়েছিল বলে দাবি করেছেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।
আজ শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০০১ সালের ২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যুর সময় দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। তখন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফনের অনুমতি মেলেনি। যে মানুষটি সারাজীবন ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাকেই দাফন করতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছিল।
আহমদ ছফার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভা’ ও ‘এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভা’ যৌথভাবে আয়োজন করে ‘আহমদ ছফা স্মৃতিবক্তৃতা ২০২৬’। এবারের বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘আহমদ ছফার স্মৃতি না বিকৃতি?’ মূল বক্তা ছিলেন আহমদ ছফা রচনাবলির সম্পাদক ও তাঁর ভাতিজা নূরুল আনোয়ার।
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আহমদ ছফার কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয় উল্লেখ করে সলিমুল্লাহ খান বললেন, ‘আহমদ ছফার কবর বুদ্ধিজীবিতে দেওয়ার জন্য তার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার আবেদন করলেন। সেটা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, দুই বছর ধরে লড়াই চলছে। আমি এটা জানতাম না যে এর জন্য গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়, তারপর সিটি করপোরেশন কাজটা করবে। আবার ঢাকা জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হয়। এই সব নিয়ে এখনো কাজটা সম্পন্ন হয়নি।’
নূরুল আনোয়ার তার বক্তৃতায় আহমদ ছফাকে নিয়ে সম্প্রতি মহিউদ্দিন আহমদের লেখা স্মৃতিচারণামূলক বই ‘আমার কথা কইবে পাখি’–এর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই বইয়ে আহমদ ছফাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান এবং আহমদ ছফার বন্ধু ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল হক। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন সলিমুল্লাহ খান।
বক্তারা আহমদ ছফার সাহিত্য, দর্শন ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং তার জীবন ও কর্মকে নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও নির্ভুল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




