জীবনানন্দের মাল্যবান অবলম্বনে মঞ্চে এলো ‘সম+সার’

‘সম+সার’ মঞ্চনাটকের একটি দৃশ্য
মানুষের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান মানসিক দূরত্বকে বিমূর্ত ও শিল্পিত ভাষায় প্রকাশের প্রয়াস নিয়ে মঞ্চে এসেছে নতুন নাটক ‘সম+সার’। জীবনানন্দ দাশের উপন্যাস ‘মাল্যবান’ অবলম্বনে থিয়েটার দল ‘শুণ্য’ মঞ্চে এনেছে এই নাটকটি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, আগামীকাল শুক্রবার একই মিলনায়তনে বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির আরও দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
নাটকটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, প্রয়োগ ভাবনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন খন্দকার রাকিবুল হক। নাটকটিতে অভিনয় করছেন যাজ্ঞোসীনি মৌ ও শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী।
নির্দেশক খন্দকার রাকিবুল হক বললেন, ‘মাল্যবান উপন্যাস একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও অস্বস্তির অনুভূতি জাগায়; এমন এক জগতে নিয়ে যায় যেখানে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি, হতাশা ও অপূর্ণতা মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। ‘সম+সার’ নাটকে মানবিক সংযোগের মনোদৈহিক চাপ, সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং মানুষের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান মানসিক দূরত্বকে বিমূর্ত ও শিল্পিত ভাষায় প্রকাশের আন্তরিক প্রয়াস রয়েছে। বাহ্যিকভাবে এটি দাম্পত্য জীবনের নানা টানাপোড়েন, আকাঙ্ক্ষা ও অস্বীকৃতির দ্বন্দ্ব এবং নারী-পুরুষের চিরায়ত চিন্তাগত পার্থক্যকে উপস্থাপন করে।’
তিনি আরও জানান, এই প্রযোজনার মূল শক্তি অভিনয়। মঞ্চ এবং আলোকসজ্জা ইম্প্রেশনিজম ও এক্সপ্রেশনিজম শিল্পধারার সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি হয়েছে। সংগীত পরিকল্পনায় প্রাচ্যের ধ্রুপদী ধারা ও বাংলার নিজস্ব যন্ত্রসংগীতের প্রভাব এবং পোশাকে বাস্তববাদী ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রযোজনাটির মূল লক্ষ্য দর্শকের মনোজগতে নারী-পুরুষের সম্পর্কের দার্শনিক প্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্নের উদ্রেক করা। সব মিলিয়ে ‘সম+সার’ কেবল একটি নাট্যপ্রযোজনা নয়; মানুষের ভেতরকার অদৃশ্য দূরত্ব, সম্পর্কের নীরব সংকট এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক শিল্পিত অভিজ্ঞতা।
নাটকটির মঞ্চ সামগ্রী পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্নো, আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণে অম্লান বিশ্বাস, পোশাক পরিকল্পনায় রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা ও যাজ্ঞোসীনি মৌ, সহকারী পোশাক পরিকল্পনায় শ্রেয়া সাহা স্বর্ণা, ইন্সটলেশন আর্ট-এ সায়ীদা সরদার ও ফারিবা ইসলাম, সংগীত পরিকল্পনায় খন্দকার রাকিবুল হক, প্রকাশনা পরিকল্পনা ও নির্মাণে ঋজু লক্ষ্মী অবরোধ, লোগো নির্মাণে কাশবাঈ জান্নাত ঐশী, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা এবং নির্দেশকের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মারজান রাইসা।




