চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা

মাহাবুব হোসেন সামির
চাঁদাবাজি মামলায় সাভার থানা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই আশিষ কুমার দাস। অন্যদিকে, আগামী রবিবার জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মহসিন মিয়া। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোড এলাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাহাবুব হোসেন সামিরকে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চাঁদা না পেয়ে গত ২৪ মে দুপুরে সামির তার দলবল নিয়ে শামীম রেজার রাজাশন আমতলীর বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় ঘর থেকে নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে। এরপর তারা শামীম রেজার রিকশা গ্যারেজে হানা দিয়ে গ্যারেজের ক্যাশ থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তী সময়ে আবারও ওই গ্যারেজে হানা দিয়ে ৯ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা লুট করে আসামিরা। সর্বশেষ গত ১২ জুন রাতে সামির তার দলবল নিয়ে শামীম রেজার ৩-তলা ফ্ল্যাটে ঢুকে আবার চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা শামীম রেজার বৃদ্ধা খালা সুরাইয়া বেগমকে মারধর করে এবং তার গলা থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া বাধা দেওয়ায় তার খালাতো বোন লাবনী বেগমের স্বামী একরামুল হককে সুইচ গিয়ার চাকু ও হকি স্টিক দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
একই সময়ে শামীম রেজার ভাইয়ের স্ত্রী বন্যা বেগমের শ্লীলতাহানি করে এবং তার ২ বছরের শিশুকন্যা সায়মাকে হত্যার উদ্দেশে আঘাত করে। চাঁদা দাবি করে না পেয়ে সব মিলিয়ে নগদ টাকা, রিকশা ও স্বর্ণালংকার বাবদ ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় আসামিরা।
এ ঘটনায় শামীম রেজার খালাতো বোন লাবনী বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ জুন সাভার মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।





