সাভার
ছাত্রদল নেতার মারধরে দৃষ্টিহীন কিশোর, দল থেকে বহিষ্কার

ছবি: আগামীর সময়
সাভারে ছাত্রদলকর্মীর অফিসে রিপন ঋষি নামে এক কিশোর মারধরের শিকার হয়েছে। পরিবারের দাবি, মারধরের শিকার কিশোর দুই চোখে দেখতে পাচ্ছে না। সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান সামিরকে বহিষ্কার করেছেন।
আজ শনিবার সকালে সাভার মডেল থানার (ওসি, তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করেছেন।
হামলার শিকার রিপন ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকার জীবন ঋষির ছেলে। সে বাবা মায়ের সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার রাজাসন পালোয়ানপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাসায় থাকত।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান সামির, মানিক ওরফে পিস্তল মানিক, সজিবসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন।
হামলার শিকার রিপনের ভগ্নিপতি স্বপন সূত্রধর জানান, ৩০ মে বিকালে সাভারের রাজাশন এলাকায় এক ছেলের সঙ্গে রিপনের ধাক্কা লাগে। পরে ২ জুন রিপনকে একা পেয়ে কয়েক জন যুবক পালোয়ন পাড়া ছাত্রদলকর্মী বাদশার অফিসে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। পরে বাদশা সজিবসহ বাকিরা রিপনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
রিপনের মা আসন্তি ঋষি জানান, মারধরের কারণে ছেলের চোখে ও মাথায় সমস্যা হয়েছে। পরে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে মাহাবুর রহমান সামির জানালেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপরদিকে মাহাবুর রহমান সামিরকে বহিষ্কারের ঘটনাটি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল জানালেন, সংখ্যালঘু এক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় এফআইআর হয়েছে। সে কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাকে বহিষ্কার করেছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বললেন, এক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় রাতে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।




