কৌতূহল বিদেশি গাছে, কিনছেন দেশি ফলের চারা

মেলায় অনেকের মনোযোগ মিরাকেল বেরির দিকে
হঠাৎ আকাশে ঘন মেঘ। ঢেকে যায় রোদ। দিগন্ত জুড়ে ঝুম বৃষ্টি। টাপুর টুপুর। টুপুর টাপুর। বাংলাদেশে এইতো আবহমান বর্ষা। চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময়ও এটাই। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে যেসব দর্শনার্থী জাতীয় বৃক্ষমেলায় ঘুরছিলেন, তাদের চাওয়াও যেন তাই। এমন বর্ষায় পছন্দের গাছের চারা সংগ্রহ করা।
৯ জুলাই শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা। হাজারো দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছ শতাধিক স্টলে। কেউ দেখছেন, কেউ কিনছেন। তবে বিদেশি প্রজাতির গাছের প্রতি কৌতূহল থাকলেও বেশি কেনা হচ্ছে দেশি ফলের চারা।
দর্শনার্থীদের একজন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক। আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘দেশি গাছ গ্রাফটিং করা সহজ। এ ধরনের গাছই বেশি কিনেছি। বিদেশি গাছের যত্ন নিতে পরিশ্রম আছে। বেশিরভাগই এক বা দুই ঋতুর গাছ। একটু হিসাব করে নিতে হয়।’
কয়েক প্রকার আমের চারা, তুঁত ফল ও মালটাগাছ কিনতে দেখা যায় তাকে। মেলায় অনেকেই বেছে নিচ্ছিলেন দেশি ফলদ গাছ। যুক্তিটাও সহজ। সহজে পরিচর্যা করা যায়। আমাদের আবহাওয়ায় দ্রুত বেড়ে ওঠে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা গ্রামের বাড়িতে বেশ মানানসই। এমনই ভাষ্য নার্সারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রিপনের। তার মন্তব্য, এ বছর দেশি ফলের গাছ বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে থাই, চাইনিজ এবং ভারতীয় ফলের গাছও।
মেলায় প্রদর্শিত প্রতিটি গাছের সঙ্গে ছিল ফলের ছবি ও পরিচিতি। ক্রেতারা সহজেই পছন্দ করতে পারছিলেন। জানতে পারছিলেন জাত ও বৈশিষ্ট্য। শৌখিন বাগানপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছিল থাই আম, জাপানি ফল, অ্যাভোকাডো, ম্যাকাডেমিয়া, ড্রাগন, রামবুটান। তবে ভিড়ের বেশিরভাগটাই ছিল আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেয়ারা, জলপাই, কুল, আমড়া ও ডালিমের মতো পরিচিত ফলের চারার কাছে।
যদিও এবার মেলায় অনেকের মনোযোগ মিরাকেল বেরির দিকে। বিদেশি ফল হলেও দোকানিরা তাকে ডাকছেন আদুরে নামে। নামটাও বেশ। মিরাকেল বেরি। আরও শোভা পাচ্ছিল এপ্রিকট, গোলাপি কাঁঠাল, চেরি, বিভিন্ন রঙের আঙুর, লংগান, ডুরিয়ান, আপেল, মুসাম্বি, তিনের মতো ফলের চারা।
গৃহবধূ নাজনীন আক্তার অভিযোগ করছিলেন, মেলায় গাছের দাম কিছুটা বেশি। যারা দরদাম করতে পারে না তারা বিপাকে আছে। তার ভাষ্য, ‘দেশি ফল গাছগুলোর দাম জানা। এ ধরনের গাছই বেশি কিনেছি। ফলের গাছ ছাদবাগানে রাখব। বেশি বড় হলে গ্রামে নিয়ে যাব। এ কারণেই দেশি ফলের গাছে এত আগ্রহ।’
বিদেশি ফলের গাছের দাম বেশি— স্বীকার করেন নার্সারি মালিক আব্দুল আখের। ‘দেশি ফলের গাছের মধ্যে চাহিদা বেশি আম, পেয়ারা, কুল, লিচু, করমচা ও জলপাইয়ের। এসব গাছের দাম তুলনামূলক হাতের নাগালে। ফলে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে অবস্থান করছে। বিদেশি প্রজাতির গাছের দাম একটু বেশি। মূলত শৌখিন বাগানপ্রেমীরাই নিচ্ছেন।’






