হাটের বর্জ্য সরেনি এখনো
- এক দিনের সময় চাইলেন ডিএনসিসি প্রশাসক
- আইন ভঙ্গকারীদের জন্য দক্ষিণ করবে কালো তালিকা
- হাট শেষ তো ইজারাদার লাপাত্তা

ছবি: আগামীর সময়
বাঁশ-খুঁটি এখনো বাঁধা। গোবর শুকিয়ে ঘুঁটে। রাস্তার মধ্যে খড়কুটোর স্তূপ; এমন চিত্র রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটের। ৪ দিন আগে হাট শেষ হলেও এখনো সরেনি বর্জ্য। খোলা হয়নি পশু বাঁধার বাঁশের কাঠামো। অথচ হাটের বাঁশ-খুঁটি খুলতে এবং বর্জ্য সরাতে কোরবানির দিন উত্তর সিটির প্রশাসক সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ৭২ ঘণ্টা। কিন্তু প্রায় ২০ দিনের বেশি সময় ধরে হাটের নামে মাঠটি দখল করে রেখেছেন ইজারাদার। কবে নাগাদ মাঠটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। উত্তরার এই গণপরিসরটি বহু মানুষের বিনোদনের একমাত্র জায়গা।
কোরবানির প্রায় ২ সপ্তাহ আগেই দিয়াবাড়ির এই মাঠটি দখল করেন ইজারাদার। অথচ হাট এবং প্রস্তুতি মিলিয়ে মোট সপ্তাহখানেকের জন্য গণপরিসর ব্যবহার করতে পারেন ইজারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কোরবানির পশুর হাটের ইজারা শর্তে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, কোরবানির হাট শেষ হওয়ার পরপরই গণপরিসর বা মাঠের বাঁশ-খুঁটি খুলে বর্জ্য পরিষ্কার করবে ইজারাদার। তবে এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেনি দিয়াবাড়ি হাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এস এফ করপোরেশন। যার স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।
রবিবার বিকাল ৫টার দিকে দিয়াবাড়ি মাঠে হামিদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। রোদে ছাতা মাথায় দিয়ে শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে এসেছিলেন কোরবানির পর একটু ঘোরার জন্য। কিন্তু নোংরা পরিবেশ আর আবর্জনার দুর্গন্ধে তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়াননি। হাঁটতে হাঁটতে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ইজারাদাররা পার পেয়ে যায়। আজ ৩ সপ্তাহ ধরে উত্তরাবাসীর ঘোরার জায়গাটির এমন দশা। একটা বাঁশ-খুঁটিও সরানো হয়নি। অথচ ইজারাদারের কোনো হেলদোল নেই। হাট শেষ তো ইজারাদার লাপাত্তা।
বিষয়টি নিয়ে দিয়াবাড়ি হাটের ইজারার সঙ্গে যুক্ত এম এ জামানের সঙ্গে কথা হয়। ৭২ ঘণ্টা পার হলেও কেন পশুর হাটের বর্জ্য এবং বাঁশ-খুঁটি খোলা হয়নি জিজ্ঞেস করতেই ক্ষেপে গিয়ে আগামীর সময়কে বললেন, ‘কে বলেছে ৭২ ঘণ্টা সময়? আগামী মাসের ২৫ তারিখ (যদিও পরে ১৫ তারিখ উল্লেখ করেছেন) পর্যন্ত সময় আছে।’
তিনি আরও জানালেন, ‘সবাই বাড়ি গিয়েছে ঈদের ছুটিতে। আসলে তারপর শ্রমিক খবর দিব, তারপর বাঁশখুঁটি খোলা হবে। হাট শেষ হয়েছে কয়েকদিন হয়েছে? এত তাড়াতাড়ি কীসের?’
হাটের এমন চিত্রের বর্ণনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আরও এক দিন সময় চাই। সোমবারের মধ্যে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
হাটের এমন অনিয়ম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও (ডিএসসিসি) দেখা গেছে। হাজারীবাগের পশুর হাটের বাঁশ-খুঁটি খোলা হলেও তা রাখা হয়েছে ফুটপাত দখল করে। এতে চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে পথচারীদের। তবে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সবগুলো হাটের বাঁশখুঁটি খোলা হয়েছে। তবে সেগুলো এখন সরানো সম্ভব হয়নি। এ সময় তিনি যেসব ইজারাদার নিয়ম মেনে হাট বসায়নি বা বাঁশখুঁটি খোলেনি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার কথা জানান। এ ছাড়া যেসব ইজারাদার মাত্রাতিরিক্ত আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে তারা আর হাটের ইজারা না পান।
বারবারই খেলার মাঠ বা গণপরিসরে পশুর হাট বসানোর বিরোধিতা করে আসছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। দুই সিটি করপোরেশন তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলে, এবারই শেষ। সামনের বছর থেকে আর বসাবেন না। তবে সেই সামনের বছর আর আসে না। খেলার মাঠ বা গণপরিসর থেকেও পশুর হাট সরে না।
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এই শহরে ১০ ভাগের ১ ভাগ মাঠও নেই। তবুও সেই মাঠেই হাট বসানো হয়, মেলা বসে, মেট্রোরেলের জিনিসপত্র রাখা হয়। বারবার মাঠই বলি হয়। হাট শেষ হওয়ার পর দুই মাস লেগে যায় মাঠগুলো আবার আগের মতো হতে। এ সময় তিনি মজা করে বললেন, প্রধানমন্ত্রী বর্জ্য পরিষ্কার পরিদর্শন করার পর দ্রুত কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার হলো। এখন যদি প্রধানমন্ত্রী খেলার মাঠ পরিদর্শনে যান, তাহলে হয়তো খেলার মাঠগুলোও রক্ষা পাবে।’
উল্লেখ্য, দুই সিটির পশুর হাটের বর্জ্য এখনো না সরলেও কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫৪ হাজার টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি।









