আগামীর সময়

নগরজীবনের ভরসা এখন মেট্রোরেল

নগরজীবনের ভরসা এখন মেট্রোরেল

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ঢাকার সড়কের গণপরিবহনে চলাচল কমে গেছে।

এছাড়া ব্যস্ত মোড়গুলোতে আগের মতো নেই যানজট।


ফলে বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইনও চোখে পড়ে না যাত্রীদের। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, ভোট উপলক্ষে অনেক চালক, সহকারী ও কর্মচারী নিজ নিজ জেলায় চলে গেছেন। নির্বাচন কমিশনের যান চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে নগরীর সড়কভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রাজধানীবাসীর প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে মেট্রোরেল।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচল ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে।


আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকরা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।


ইসির অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে ভোটারদের জন্য। তবে গণপরিবহনের ঘাটতি সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতি মধ্যেও রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, ভোটের দিন যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। নিয়মিত সময়সূচি বজায় রেখে সেবা চালু থাকায় অনেকে বিকল্প ভাবনা না করে সরাসরি মেট্রোস্টেশনের দিকে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মিরপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট ও মতিঝিল স্টেশনগুলোতে যাত্রীচাপ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রিত।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিল এলাকার ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানজট নেই বললেই চলে। অনেক বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসের উপস্থিতি কম।


কয়েকটি রুটে দীর্ঘ সময় পরপর একটি-দুটি বাস আসছে, তাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীতে পূর্ণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চালক ও সহকারীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ জেলায় চলে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ স্টেশনে সকাল থেকেই যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও বিশৃঙ্খলা নেই। টিকিট কাউন্টার ও স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সামনে সারিবদ্ধ লাইন, নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন আসছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে। অনেক যাত্রী জানান, বাসের জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি মেট্রোস্টেশনে চলে আসছেন তারা।


এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে বড় দোকান, শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটন এলাকাগুলোতেও বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যবসা সীমিত। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লেনদেনেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।


তবে এই সময়ের সড়কভিত্তিক গণপরিবহন কমে গেলে নগরজীবন দ্রুত চাপে পড়ে। সেই চাপ অনেকটাই সামাল দিচ্ছে মেট্রোরেল। নির্বাচনকালীন বিধিনিষেধের মধ্যেও সচল এই সেবা রাজধানীকে পুরোপুরি অচল হতে দেয়নি। তাই অনেকের মুখে এখন একটাই কথা, ভরসা এখন মেট্রোরেল।

    শেয়ার করুন: