কল্যাণ তহবিল
১২০০ কোটি টাকা শ্রমিকের প্রয়োজনে ব্যয়ের তাগিদ

ছবি: আগামীর সময়
শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের কাছে জমা থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান। তিনি বললেন, ‘অন্তত এই অর্থের সুদ হলেও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত।’
আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত অংশীজন সভায় তিনি এ দাবি জানান। ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সুপারিশ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে সলিডারিটি সেন্টার।
তৌহিদুর রহমান বললেন, ‘অনেক শ্রমিক কষ্টে সংসার চালান। বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুব কম। মালিকপক্ষ নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সংকটের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে পাশে থাকে না। অনেক শ্রমিক ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত হন। কেউ কর্মহীন হয়ে পড়লে বা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।’
তিনি বললেন, ‘সরকারের কাছে শ্রমিকদের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে। সেই অর্থ ফেলে না রেখে শ্রমিকদের প্রয়োজনেই ব্যয় করা উচিত। প্রয়োজনে অন্তত সুদের অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
‘শ্রমিক সংগঠনগুলোও তহবিল সংকটে রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য কাজ করতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যয়ের সময় এসেছে। শ্রমিক কল্যাণের টাকা শ্রমিকদের জন্যই ব্যয় করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’—যোগ করেন তিনি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম। তিনি বলেছেন, শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনের পর সরকার শ্রম বিধিমালা সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর করে শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বললেন, ‘শ্রম বিধিমালা অবশ্যই শ্রম আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে এটি যেন শ্রম আইন বাস্তবায়নকে সীমিত না করে, বরং কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’
মূল প্রবন্ধে শ্রম বিধিমালার বিভিন্ন ধারা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী শ্রমিকের শ্রেণিবিন্যাস, ছাঁটাই-পরবর্তী নোটিসের পরিবর্তে অর্থ প্রদান, চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার, বিভাগীয় তদন্তের সময়সীমা এবং গ্রীষ্মকালে শ্রমিকদের জন্য ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থা।
এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত বিরতি, নিরাপদ পানীয় জলের সহজপ্রাপ্যতা, ধাপে ধাপে কর্মপরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স ট্যুনিয়ন বললেন, ‘আগামী বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিশ্রুত আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের সংলাপ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।’




