মুক্তিপণের ৭৫ লাখ টাকার চেক নিতে এসে ধরা!
- ব্যবসায়ীকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে কোটি টাকা দাবি

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণখানের ব্যবসায়ী মো. আজিবুর রহমান অপহরণের শিকার হন গত ৯ জুন। ভিডিওকলে পরিবারকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। আর বাকি ৭৫ লাখ টাকার চেক নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে চার অপহরণকারী। উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগী আজিবুরকেও।
গতকাল সোমবার ছিল এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলার শুনানি। এতে হাজির করা হয় চার আসামি মো. সজীব মিয়া, আব্দুল আলিম বাবু, মো. ময়নুদ্দিন ও মো. মহিউদ্দিনকে। শুনানি শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসাইন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বললেন, ‘মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত প্রত্যেকের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার ঘটনার বিষয়ে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, ভিকটিমের পরিবার থেকে নেওয়া টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধারেও অভিযান চালানো হবে।’
অপহরণ মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১১ জুন মো. আজিবুর রহমানের ব্যবহৃত মেসেঞ্জার থেকে তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে ভিডিওকল দেওয়া হয়। সেখানে দেখানো হয়, অজ্ঞাতপরিচয় স্থানে আটকে তাকে মারধর করার দৃশ্য। এ সময় মুক্তিপণ হিসেবে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা জোগাড় করে আসামিদের জানানো হয়। তখন তারা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেয়। গত রবিবার দক্ষিণখান শাখার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। মামলার বাদীর চাচাতো ভাই সোহেল রানা তার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ লাখ টাকা দেন। বাকি ৭৫ লাখ টাকার জন্য চেক দিতে বলে অপহরণকারীরা। এই প্রস্তাবে আজিবুরের স্ত্রী ও ভাগ্নে রাজি হন। তখন আসামিরা জানায়, ভিকটিম আজিবুরকে দক্ষিণখান থানার হলান অটোস্ট্যান্ডে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানেই নেওয়া হবে চেক।
খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। উদ্ধার করে ব্যবসায়ী মো. আজিবুর রহমানকে। পরে তাদের ভাগ্নে জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। এতে তিনি ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করেন।
জানা গেল, গত ৯ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজিবুর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের জসীমউদদীন রোড এলাকায় ছিলেন। ওই সময় আসামি সজীব, আলিম ও ময়নুদ্দিন তার কাছে যান। পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাদের নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন থ্রি রেস্টুরেন্টে খাবারও খান আজিবুর। খাওয়া শেষে তাকে প্রাইভেট কারে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞাতপরিচয় স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। মারধর করে মুক্তিপণের জন্য টাকাও চাওয়া হয়।
মামলার বাদী জহুরুল ইসলাম বললেন, ‘মুক্তিপণের জন্য ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমাদের কাছে স্ট্যাম্প করে আরও ৭৫ লাখ টাকার চেক দাবি করেছিল। কিন্তু নিরুপায় হয়ে আমরা রাজি হয়েছিলাম। মামাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। বর্তমান তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা মামলা করেছি, এখন ন্যায়বিচার চাই।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ শাহীন হাসানের দাবি, আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ভিকটিমের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। পাওনা টাকা না দিয়ে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। টাকা আদায়ে তাকে আটকানো
হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা ভিন্ন খাতে নিয়ে মামলা করা হয়েছে।




