পাসপোর্ট র্যাংকিং কী, এতে পিছিয়ে থাকলে কী হয়

সংগৃহীত ছবি
বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর গ্রহণযোগ্যতা। কোন দেশের নাগরিক কত সহজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে পাসপোর্ট র্যাংকিং।
শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা পর্যটনের জন্য বিদেশে যেতে হলে প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে, সেটি হলো ভিসা। আর কত সহজে ভিসা পাওয়া যাবে, সেটিই মূলত নির্ধারিত হয় পাসপোর্ট র্যাংকিং দিয়ে।
এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো বা খারাপ র্যাংকিংয়ের প্রভাব কী, আসুন জেনে নিই।
পাসপোর্ট র্যাংকিং কী?
পাসপোর্ট র্যাংকিং হলো একটি আন্তর্জাতিক সূচক। এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই, ভিসা অন অ্যারাইভাল বা ই-ভিসার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেন কতটি দেশে। যে দেশের নাগরিকরা বেশি সংখ্যক দেশে সহজে প্রবেশের সুযোগ পান, তুলনামূলক শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয় সেই দেশের পাসপোর্টকে।
বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, পাসপোর্টের র্যাংকিং মূলত একটি দেশের নাগরিকদের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ও সেই দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির প্রতিফলন। একটি দেশের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এ মূল্যায়নে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে একই স্থানে যৌথভাবে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
নলি পাসপোর্ট সূচকের নিয়ম ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক এই র্যাংকিং তৈরি করার জন্য মোট ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং বিশ্বের মোট ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে একই র্যাংকিংয়ে যৌথভাবে অবস্থান করছে উত্তর কোরিয়া। গত বছর এ র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে পূর্বানুমতি বা আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন, যা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
বাংলাদেশের পরে ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। এরপর রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া।
সূচকের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচে বা ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।
পাসপোর্ট র্যাংকিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পাসপোর্টের র্যাংকিং ভালো হলে বিদেশ ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে যায়। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীদের জন্যও এটি তৈরি করে বড় সুবিধা। একই সঙ্গে একটি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে র্যাংকিং দুর্বল হলে বিদেশি দূতাবাসগুলো ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করতে পারে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা ঝুঁকিও বেড়ে যায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের।
বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট তুলনামূলক নিচের অবস্থানে থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। অনেক দেশের সঙ্গে এখনো ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা চুক্তি হয়নি। কিছু দেশে বাংলাদেশকে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে দেখা হয়।
পাশাপাশি অর্থনৈতিক সূচক, কূটনৈতিক প্রভাব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তাবিষয়ক মূল্যায়নও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কীভাবে উন্নতি সম্ভব?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন ভিসামুক্ত চুক্তি, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পাসপোর্ট জালিয়াতি রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতও করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিংয়েও দেশের অবস্থান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





