শফিকুল ইসলাম খান
ঢাকা উত্তরে মশা নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত
মশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক
আগামীর সময়: মশকনিধনে এখন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
শফিকুল ইসলাম খান: ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ড ও ১০টি অঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ তাদের নিয়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক সমন্বিত মনিটরিং সভা হয়। কোথায় মশার উৎপাদন বেশি হচ্ছে বা লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্ষায় বৃষ্টির ২৪ ঘণ্টা পর হটস্পটগুলোতে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। যেখানে লার্ভা পাওয়া যায়, সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাড়ির মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি খাল-বিল পরিষ্কার রাখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত চার মাসের তুলনায় বর্তমানে মশা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ডেঙ্গুও অন্যান্য বছরের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে আছে। ডেঙ্গু, এডিস মশা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা কাজ শুরু করেছেন।
আগামীর সময়: এ বছর ডেঙ্গুতে ৬৩ জনের মৃত্যু এবং ২০ হাজারের বেশি আক্রান্তের বিষয়টি আপনাদের কতটা ভাবাচ্ছে?
শফিকুল ইসলাম খান: কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ও আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকাংশই ঢাকার বাইরের। তারা ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হন। আমরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। আমাদের একটি লেজার বুক আছে। কর্মকর্তারা প্রতিদিন আক্রান্তের তথ্য সংগ্রহ করে হটস্পট নির্ধারণ করছেন। এ কারণেই পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। মশা আরও কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগামীর সময়: ব্রুটো ইনডেক্সে গত বছরের তুলনায় এবার লার্ভার ঘনত্ব কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে। এ বছর মশার ঘনত্ব বোঝার জন্য সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরিপ চালিয়েছে। জরিপের পর কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
শফিকুল ইসলাম খান: জরিপের প্রতিবেদন আমাদের কাছেও আছে। এর ভিত্তিতে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। লার্ভার ঘনত্ব নিয়ে তারা এরই মধ্যে কাজ করছেন।
আগামীর সময়: নতুন কীটনাশক, বিশেষ করে বিটিআই ও ‘কম্বিনেশন অব থ্রি’ আনার কার্যক্রম কোন পর্যায়ে?
শফিকুল ইসলাম খান: কীটতত্ত্ববিদদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ওষুধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওষুধটি কতটা কার্যকর এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কি না— সবকিছু বিবেচনা করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন একই ওষুধ ব্যবহার করলে মশার সঙ্গে সেটির একধরনের অভিযোজন তৈরি হয়। তাই নতুন ওষুধ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামীর সময়: বিটিআই কবে আমদানি ও প্রয়োগ শুরু হতে পারে?
শফিকুল ইসলাম খান: ওষুধ আমদানিতে টেন্ডার, এলসি খোলাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হলে সময়সীমা বলা যাবে।
আগামীর সময়: মশকনিধনের বাজেট, জনবল ও সরঞ্জাম কি পর্যাপ্ত?
শফিকুল ইসলাম খান: বিভাগীয় প্রধানদের চাহিদা অনুযায়ী ফগিং মেশিন, ওষুধ, কর্মী ও আউটসোর্সিং জনবল বিবেচনা করেই বাজেট করা হয়েছে। আমরা মনে করছি, এবারের বাজেট যথেষ্ট। জরুরি প্রয়োজন হলে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন তহবিল থেকে ব্যবস্থা করা হবে।
আগামীর সময়: নতুন কীটনাশক প্রয়োগের আগে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি?
শফিকুল ইসলাম খান: অবশ্যই। নতুন ওষুধ প্রয়োগের আগে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কীভাবে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, কোন সময়ে করতে হবে এবং তাপমাত্রার বিষয়গুলো তাদের জানানো হয়। সকালে লার্ভিসাইডিং এবং বিকালে ফগিং— সবকিছুর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
আগামীর সময়: বিশ্ব মশা দিবসে নগরবাসীর প্রতি আপনার বার্তা কী?
শফিকুল ইসলাম খান: প্রিয় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান, নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। সবাই সচেতন হলে এবং সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করলে মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও সহজ হবে। এই নগর সবার। আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত নগর উপহার দিতে চাই।






