বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়াতেই ধাক্কা
- সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ

সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে বিইআরসি’র কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিতে।। ছবি: সংগৃহীত
সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা এবং গড় বিতরণ চার্জ ১ টাকা ১৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ কিনতে পারবে সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলো।
রবিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ বিষয়ে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এমন প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের ধারণাটি বাংলাদেশে পুরোপুরি নতুন। মূলত নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ। এসব কেন্দ্রে উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের পছন্দের গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন। এ জন্য নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করা যাবে।
কারিগরি কমিটির হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩২৬ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কার্যকরী মূলধন ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট মূল্যভিত্তি ধরা হয়েছে ৩৭০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর ওপর ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে মুনাফা, জনবল, মেরামত, প্রশাসনিক ব্যয় ও অপচয় মিলিয়ে মোট রাজস্ব চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যান্য আয় বাদ দিলে নিট রাজস্ব চাহিদা দাঁড়ায় ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কেন্দ্রটির নিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। এর ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিটি সৌরকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনেরও সুপারিশ করেছে। এতে দিনের সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাতে তা ব্যবহার করা যাবে।
শুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা বলেছে, বড় গ্রাহকেরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ারে চলে গেলে তারা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হবে। কারণ শিল্প গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি, যা আবাসিক গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে তোলা সম্ভব নয়।
তাদের এ উদ্বেগের বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করেন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘আপনারা বিদ্যমান বিতরণ ও সঞ্চালন চার্জের চেয়ে বেশি প্রস্তাব করার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে বিইআরসির টেকনিক্যাল কমিটিও বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতে সৌরবিদ্যুতের মূল্যহার ৩ দশমিক ৮০ টাকা, পাকিস্তানে ৩ দশমিক ৯০ টাকা। এর চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করতে হলে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশে ব্যয়ের বড় অংশ লুণ্ঠনমূলক। অতীতের আইপিপির দর বিবেচনায় করা হয়েছে। অতীতে যা হয়েছে, সেটাই লুণ্ঠনমূলক, সেটি প্রকৃত বেঞ্চমার্ক হতে পারে না। বিতরণ চার্জ বিদ্যমান চার্জের বেশি হতে পারে না। আর গণশুনানির ভিত্তিতে বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করতে হবে। সেই বেঞ্চমার্ক অন্যদের মেনে চলতে হবে।’
ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ বছরের জন্য মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে ভ্যাট-ট্যাক্স মুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শুনানিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবার মতামত শুনলাম। এরপরও যদি কেউ আর কোনো মতামত দিতে চান, তাহলে লিখিত আকারে দিতে পারেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেব।’







