কথা ছিল খাসির, দেওয়া হলো মুরগি—বিয়েবাড়িতে তুমুল মারামারি

খাবারের পরিবর্তন দেখেই ক্ষুব্ধ বরযাত্রীরা প্রতিবাদ জানান। এই নিয়ে অতিথি ও আয়োজকদের মধ্যে প্রথমে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। মুখের কথা দ্রুতই রূপ নেয় হাতাহাতিতে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের বিহারের একটি শহরে বিয়েবাড়ির সব আয়োজন চলছিল বেশ ভালোভাবেই। বিপত্তিটা বাধল দুপুরের খাবার পরিবেশনের সময়। বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মধ্যে হঠাৎ এমন এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের উৎসব পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
দুই পক্ষের তুমুল মারামারিতে শেষ পর্যন্ত আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। আর এই হট্টগোলের পেছনের কারণটি ছিল বেশ অদ্ভুত। কনেপক্ষ বরযাত্রীদের খাসির মাংস খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ মুহূর্তে পাতে পরিবেশন করা হয়েছিল মুরগির মাংস।
বিহারের সহরসা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর শহরে গত বৃহস্পতিবার এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
ওই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ে হয় মোহাম্মদ জাভেদের মেয়ের।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল বেশ শান্তিপূর্ণভাবে।
বরের এক আত্মীয়ের ভাষ্য, মূল ঝামেলাটা শুরু হয় বিয়ে শেষে যখন সব বরযাত্রী একসঙ্গে খেতে বসেন।
বরপক্ষের দাবি, বিয়ের মেন্যুতে খাসির মাংস রাখার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু টেবিলে খাবার আসতেই দেখা যায় খাসির বদলে দেওয়া হয়েছে মুরগির মাংস।
খাবারের এই পরিবর্তন দেখেই ক্ষুব্ধ বরযাত্রীরা প্রতিবাদ জানান। এই নিয়ে অতিথি ও আয়োজকদের মধ্যে প্রথমে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। মুখের কথা দ্রুতই রূপ নেয় হাতাহাতিতে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চড়াও হয়।
বরপক্ষের অভিযোগ, কনেপক্ষের লোকেরা লাঠিসোটা নিয়ে বেদম মারধর করেছে বরযাত্রীদের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারামারির বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে পুরুষদের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। এই সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে সিমরি বখতিয়ারপুরের মহকুমা হাসপাতালে।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
সূত্র : এনডিটিভি





