বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকতে কানাডা ছাড়লেন প্রযুক্তিবিদ ছেলে

প্রযুক্তি কর্মকর্তা রমেশ এনএন
বিদেশে ছিল সফল ক্যারিয়ার। তবুও বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকার জন্য দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এক প্রযুক্তি কর্মকর্তা। তার এই সিদ্ধান্তের গল্প ছুঁয়ে গেছে অনেকের হৃদয়। ব্যাপক প্রশংসা বার্তাও পাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
ভারতের বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তি কর্মকর্তার নাম রমেশ এনএন। প্রায় ছয় বছর আগে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি কানাডার চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন ভারতে।
আইটি প্রতিষ্ঠান করসেন্ট্রিকের ইঞ্জিনিয়ারিং পরিচালক রমেশ লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দূর থেকে ভিডিও কলে পরিবারের মুহূর্ত দেখার চেয়ে মা-বাবার পাশে সরাসরি থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই বিদেশের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ছেড়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
রমেশ লিখেছেন, জীবনের এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের জন্য বিদেশের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে দিতে হয়েছে। জীবনে অনেক সময় স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্পর্ক, নিশ্চয়তা ও দায়িত্ব, কিংবা বৈশ্বিক সুযোগ ও পরিবারের পাশে থাকার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়।
দেশে ফেরার পর তার পরিবার বেঙ্গালুরুতে বসবাস শুরু করে। রমেশের ভাষ্য, ভিডিও কলের বদলে প্রতিদিনের ছোট ছোট পারিবারিক মুহূর্তের অংশ হতে পারা তার জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। মা-বাবার পাশে থেকে আবারও শিকড়ের টান অনুভব করেছেন তিনি।
পারিবারিক কারণের পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তি খাতও তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, শহরটির গতি, দক্ষ জনবল এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি তাকে নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে। এতে দেশে ফেরা পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়ার পরিবর্তে নতুন সুযোগ হিসেবে মনে হয়েছে।
তবে দেশে ফিরে অবকাঠামোগত সমস্যা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জও ছিল। তবুও তিনি মনে করেন, এসব অসুবিধার চেয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকার আনন্দ অনেক বেশি মূল্যবান।
রমেশের এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘২০১৫ সালে আমিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছিলাম। প্রথম বছরটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। সময়ের সঙ্গে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি এবং এখানেই পরিবার গড়ে তুলেছি।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘সাফল্য শুধু কোথায় থাকছেন, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং আপনি কী প্রভাব রেখে যাচ্ছেন এবং সম্পর্কগুলো কীভাবে ধরে রাখছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমার কাছে পরিবারই সবচেয়ে বড় বিষয়। আপনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এতে আমি সত্যিই আনন্দিত।’
সূত্র: এনডিটিভি





