বোধ হয়

বালুর ঝড়। তীব্র গরম। পানির অভাব। লাইনের পর লাইন উট। মরুভূমির কথা চিন্তা করলে এ দৃশ্যই আসে চোখের সামনে। পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ এই মরুভূমি। তবে ২০৭০ সালে তাপমাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেতে পারে যে শহরে বসবাস করলেও মনে হবে, এটি নগর নয়, মরুভূমি! এর কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, শিগগির পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বাধ্য হতে পারেন সাহারা মরুভূমির মতো অসহনীয় গরমে বাস করতে। গবেষকদের এমন সতর্কতা উঠে এসেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদনে।
বিশ্বের বেড়ে চলা তাপমাত্রা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপের একদল গবেষক।
গত ছয় হাজার বছরের গড় তাপমাত্রা মূল্যায়নের পর তারা জানিয়েছেন ২০৭০ সালের এই ভয়ংকর পূর্বাভাসের ব্যাপারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত। তাদের গবেষণার ফল বলছে, ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ বসবাস করবেন ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার অঞ্চলে। পৃথিবীর স্থলভাগের ১ শতাংশেরও কম অংশে, মূলত সাহারা মরুভূমির উষ্ণতম অঞ্চলগুলোতে, বর্তমানে দেখা যায় এ ধরনের জলবায়ু। তবে গবেষকদের মতে, ২০৭০ সালের মধ্যে পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা পৌঁছে যাবে এই তাপমাত্রায়। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বয়ে আনবে মারাত্মক হুমকি। কেননা, উচ্চ তাপমাত্রায় ফসল নষ্ট হবে। খরা এবং বন্যা পরিণত হবে স্বাভাবিক ঘটনায়। ঝুঁকি বাড়বে রোগবালাই এবং মহামারী ছড়িয়ে পড়ার। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাস্তুতন্ত্রের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা, পানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নানাভাবে প্রভাবিত করবে।’



