বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত বুকশপ চেইন কিনোকুনিয়া

রাজধানীর উত্তরার সেন্টারপয়েন্টে প্রথম শাখা চালু করেছে বিশ্বখ্যাত বুকশপ চেইন কিনোকুনিয়া— আগামীর সময়
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বখ্যাত জাপানি বুকশপ চেইন ‘কিনোকুনিয়া’। রাজধানীর উত্তরার সেন্টারপয়েন্টে প্রথম শাখা চালু করল জনপ্রিয় ও সুপরিচিত পুস্তক বিপণি ব্র্যান্ডটি।
জাপানে প্রতিষ্ঠিত কিনোকুনিয়া বিশ্বব্যাপী বই, ম্যাগাজিন ও সাংস্কৃতিক প্রকাশনার বিশাল সংগ্রহের জন্য সমাদৃত। দীর্ঘদিন ধরেই পাঠক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও জ্ঞানপিপাসুদের কাছে এটি একটি নির্ভরযোগ্য নাম। বাংলাদেশে তাদের আগমন স্থানীয় পাঠকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বই কেনার অভিজ্ঞতা নিয়ে এলো।
আজ শুক্রবার পুস্তক বিপণি ব্র্যান্ডটির উদ্বোধন করেন কিনোকুনিয়ার পরিচালক হিরোয়শি কাগেয়ামা। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে কিনোকুনিয়ার এই আগমন শিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন। আমরা এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চাই যেখানে মানুষ নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে পাবে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং বইয়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।’
কিনোকুনিয়া সাহিত্য, শিল্প, শিক্ষা, লাইফস্টাইল, শিশুতোষ বই ও শিক্ষাসামগ্রীসহ আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় প্রকাশনার সমৃদ্ধ সংগ্রহ। এটি শুধু বইয়ের দোকান নয়, বরং পাঠকদের বৈশ্বিক চিন্তা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিসর।
নতুন এই আন্তর্জাতিক বইয়ের দোকান ঘুরে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেক পাঠক। তেমনি একজন নাতাশা। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে এত মানুষ বই পড়ে, এটা দেখে আমি অবাক। দেশে আন্তর্জাতিক বইগুলোর অ্যাক্সেস খুব কম ছিল। এখন সেটা পেতে যাচ্ছি। যদিও অনলাইন থেকে অনেক বই অর্ডার করা যায়, কিন্তু বইয়ের দোকানে এসে সময় কাটিয়ে বই কেনার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ আছে। এখানে এসে সেটা অনুভব করতে পারছি। সব মিলিয়ে এমন একটি বুকশপ আমাদের দেশে হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।’
বই কিনতে আসা জাওয়াদ বলেছেন, ‘সবচেয়ে ভালো লাগছে বিদেশি বই সহজেই দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং আশা করি ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে। পরিবেশটাও খুবই রিডার-ফ্রেন্ডলি। এত মানুষ বই কিনছে, এটাও আমাদের জন্য আশ্চর্যজনক। বাংলাদেশে এ রকম আরও বইয়ের দোকান হওয়া উচিত।’
আগা খান একাডেমির লাইব্রেরিয়ান সৈয়দা মুক্তা আক্তারের ভাষ্য, ‘আমি কিনোকুনিয়ার সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। সিঙ্গাপুরের কিনোকুনিয়া বুকশপ থেকে বই কিনতাম। এখন ঢাকায় তাদের শাখা হওয়ায় বই খুঁজে পাওয়া ও কেনা আরও সহজ হবে। তবে সংগ্রহ আরও বিস্তৃত হলে ভালো হতো। এখানে ভারতীয় কনটেন্ট তুলনামূলক বেশি। তবে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের সংগ্রহ খুবই ভালো। সাধারণত বইয়ের দোকানে এত ভিড় দেখা যায় না, উদ্বোধন উপলক্ষে মানুষের উপস্থিতি বেশি। কিছুদিন পর হয়তো ভিড় কমে যাবে।’
শিশু পাঠক মিতিনের চোখে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল মাঙ্গা কমিকসের সংগ্রহ। সে বলল, ‘গা কমিক আমার অনেক পছন্দ। এখানে এসে আমি খুব খুশি, কারণ অনেক বেশি মাঙ্গা কালেকশন আছে। আমি বেশ কিছু বই কিনেছি, আরও কিনব। দেশে মাঙ্গা কমিকসের বই পাওয়া যাচ্ছে, এটা খুবই ভালো লাগছে।’
প্রথম দিনে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন কিনোকুনিয়ার পরিচালক হিরোয়শি কাগেয়ামা। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে এটি আমাদের প্রথম বুকশপ। আজ প্রথম দিনেই অনেক মানুষ দেখতে আসছেন, বই কিনছেন।’
একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কইছিরো সাতোমি। তিনি জানান, ভালো সাড়া পেলে ভবিষ্যতে এ দেশে আরও শাখা খোলার ইচ্ছা আছে।
লেখক, অনুবাদক ও সাংবাদিক ইকরাম মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের এত বড় বুক চেইনের যাত্রা বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য দারুণ সংবাদ। কিন্তু নীলক্ষেতের পাইরেসি বই ব্যবসায়ীদের সামনে কতদিন টিকতে পারবে সেটাই চিন্তার বিষয়। পাইরেসি ঠেকাতে পারলে অরিজিনাল বইয়ের পাঠক আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা জুড়ে বুকশপ চেইন কিনোকুনিয়া রয়েছে। বাংলাদেশে তাদের এই সম্প্রসারণ প্রমাণ করে দেশে মানসম্মত বইয়ের দোকান এবং জ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞতার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই উদ্যোগ একদিকে আন্তর্জাতিক প্রকাশনাগুলোকে পাঠকদের আরও কাছে নিয়ে আসবে, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।






