দৈনন্দিন জীবনের ১০টি সরকারি অনলাইন সেবা, যা অনেকেই ব্যবহার করেন না

ছবি—এআই
সরকারি বিভিন্ন সেবা এখন ধীরে ধীরে অনলাইনভিত্তিক হয়ে উঠছে। জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট আবেদন, কর পরিশোধ, ভূমি খতিয়ান দেখা কিংবা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ—এসব কাজের অনেকটাই ঘরে বসেই করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব কিংবা তথ্য না জানার কারণে এখনও অনেক মানুষ এসব অনলাইন সেবা ব্যবহার করছেন না। অথচ এসব সেবা ব্যবহার করলে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবই কমে আসে।
ডিজিটাল সেবার সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে নাগরিকদের এসব প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগতে পারে এমন ১০টি সরকারি অনলাইন সেবা তুলে ধরা হলো—
১. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা: নতুন জন্মনিবন্ধনের আবেদন, তথ্য সংশোধন কিংবা সনদ যাচাই অনলাইনে করা যায়। এতে ইউনিয়ন বা সিটি করপোরেশন অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
২. ই-পাসপোর্ট আবেদন: নতুন পাসপোর্ট, নবায়ন কিংবা ফি পরিশোধের কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। আবেদনকারীরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা: ভোটার তথ্য যাচাই, এনআইডির তথ্য সংশোধন, হারানো কার্ডের পুনরায় আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়।
৪. ভূমি সেবা: খতিয়ান দেখা, নামজারি আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এতে দালাল নির্ভরতা কমছে।
৫. আয়কর রিটার্ন দাখিল: করদাতারা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পাশাপাশি কর পরিশোধ ও ট্যাক্স সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করা সম্ভব।
৬. সরকারি চাকরির আবেদন: বেশির ভাগ সরকারি নিয়োগে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের পুরো প্রক্রিয়াই এখন অনলাইনে সম্পন্ন হয়।
৭. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ: সরকারি সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিল মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই পরিশোধ করা যায়।
৮. শিক্ষা বোর্ডের সেবা: এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, সনদ যাচাই, ডুপ্লিকেট সনদের আবেদনসহ নানা সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়।
৯. স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতালের তথ্য: সরকারি হাসপাতালের তথ্য, কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।
১০. জাতীয় তথ্য বাতায়ন: একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, নাগরিক সেবা, আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে জানা যায়।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অনলাইন সেবার ব্যবহার বাড়লে সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ হবে, দুর্নীতি ও হয়রানি কমবে এবং সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমও আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে। তাই নাগরিকদের ডিজিটাল সেবাগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




