বলছে গবেষণা
বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা

গবেষণায় যেসব কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে আর্ট গ্যালারিতে যাওয়াও ছিল।
বয়স কেবল একটা সংখ্যা, এই কথাটা আমরা সবসময় শুনি। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালে যখন বলিরেখা উঁকি দেয়, তখন মনটা একটু দমে যায় বৈকি! বয়স কমাতে আমরা কত কিছুই না করি; কড়া ডায়েট থেকে শুরু করে জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো। তবে এবার বিশেষজ্ঞরা এক নতুন আর দারুণ খবর নিয়ে এসেছেন আমাদের জন্য। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা বলছেন, শরীরচর্চার মতোই শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা আপনার বার্ধক্যের গতি কমিয়ে দিতে পারে একদম ম্যাজিকের মতো!
গান বা ছবি আঁকা কি আসলেই জিমের বিকল্প?
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গান শোনেন, ছবি আঁকেন কিংবা অবসরে একটু বই নিয়ে বসেন, তাদের শরীরের ভেতরের বয়স বা ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ অন্যদের তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাজ্যের ৩৫০০ মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে শরীরের কোষগুলো সজীব থাকে ঠিক ব্যায়াম করার মতোই সমান তালে। অর্থাৎ, কেবল পেশি গঠন করলেই হবে না, মনের খোরাক জোগানোটাও শরীরকে তরুণ রাখার জন্য সমান জরুরি।
কেন কাজ করে এই পদ্ধতি?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পের ভেতর যে নান্দনিকতা আর সৃজনশীলতা থাকে, তা আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের ইতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি করে প্রতি মুহূর্তে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি কমে মানসিক চাপও। বিশেষ করে ৪০ বছর পার করার পর যারা নিয়মিত থিয়েটারে যান কিংবা কোনো প্রদর্শনীতে ঢুঁ মারেন, তাদের বার্ধক্য অন্যদের চেয়ে অনেক ধীরে আসে খুব স্বাভাবিকভাবে। তাই সুস্থ থাকতে কেবল শাকসবজি খেলেই চলবে না, মাঝে মাঝে পছন্দের কোনো শিল্পকর্মে ডুব দেওয়াটাও স্বাস্থ্যের জন্য মহৌষধ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের অধ্যাপক জেমস স্টার্ক মনে করেন, শিল্পচর্চা কেবল শখের বিষয় নয়, বরং এটি দীর্ঘায়ু হওয়ার এক গোপন চাবিকাঠি। তবে গবেষক ইমন ম্যালন কিছুটা মজার ছলে মনে করিয়ে দিয়েছেন, যারা প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ আর তরুণ মনের মানুষ, তারাই আসলে বাইরে বের হয়ে শিল্পের স্বাদ নিতে বেশি পছন্দ করেন। তাই আপনি যদি অলসতা কাটিয়ে একটু সৃজনশীল কাজে মন দেন, তবে আপনার শরীরের ঘড়িও উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করবে অচিরেই।
তাই আর দেরি কেন? আজ থেকেই দিনের কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন নিজের পছন্দের কোনো শখের জন্য। সেটি হতে পারে একটু গুনগুন করে গান গাওয়া, পুরনো কোনো সিনেমা দেখা কিংবা নিছকই কোনো প্রদর্শনীতে ঘুরে আসা। মনে রাখবেন, মন যদি থাকে চনমনে, তবে বার্ধক্য আপনার ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগ পাবে না কোনোভাবেই!
সূত্র: সিএনএন






