Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
মনিরুলের ‘মানবতার দুয়ার’
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় তিনি বললেন

বাংলা একাডেমিতে চাকরি না করলে শিল্পী হতে পারতাম না

ওমর শাহেদ
agamir somoy
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫
শেয়ার করুন:
বাংলা একাডেমিতে চাকরি না করলে শিল্পী হতে পারতাম না

ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন

বরেণ্য সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। তার জীবনের গল্প শুনেছেন ওমর শাহেদ।

গানের সঙ্গে আপনার পরিচয় কীভাবে?

শৈশব থেকেই রেডিও আর গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গানের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পরিবারে সাহিত্য ও সংগীতের পরিবেশ ছিল। বাবা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও চাচারা গান গাইতেন; আবার অল্পবিস্তর সাহিত্যচর্চাও করতেন। বাড়িতে পত্রিকা রাখা হতো। এই পরিবেশে বড় হয়েছি। আমার বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. সারোয়ার জাহানও নামকরা গায়ক ছিলেন। মূলত তার হাত ধরেই শৈশবে গানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুরু হয়।

 

তার কী ধরনের প্রভাব আপনার ওপর পড়েছে?

ছোটবেলায় তাকে অনুসরণ করতাম। তিনিও আমাকে খুব ভালোবাসতেন। তবে গান শেখার জন্য খুব নিরুৎসাহিত করেছিলেন প্রথমে; বলেছিলেন, ‘এখন না, ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর গানের শিক্ষার্থী হবে।’ অাগে পারিবারিকভাবে বলা হতো, ‘গানে খুব বেশি না জড়িয়ে আগে লেখাপড়াটা ঠিকমতো করো।’ এসব অনুশাসনের কারণে নিজে নিজে গান শেখা শুরু করলেও স্কুলজীবন পার হওয়ার পর আমি ওস্তাদের কাছে তালিম নেওয়ার অনুমতি পেলাম। গান শেখা শুরু করলাম রাজশাহীতে। রাজশাহী এমন একটি শহর, যেখানে এখনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংস্কৃতিচর্চা, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের সংখ্যা বেশি। আমাদের সময়ে সেখানে মধ্যবিত্ত প্রতি ঘরেই সংগীত-সংস্কৃতিচর্চা ছিল। সেই প্রভাব আমার ওপর পড়েছে। স্কুলের বেড়া পার হওয়ার পর নিজে গান শিখে বিভিন্ন আয়োজনে গাইতাম। বড় ভাইয়ের সঙ্গেও গানের - , — ‘ ’ ,


গান শেখার আনুষ্ঠানিকতা তো অনুপ ভট্টাচার্যের কাছে শুরু?

প্রখ্যাত সুরকার ও গায়ক অনুপ ভট্টাচার্য ছিলেন সারোয়ার ভাইয়ের বন্ধু। কীভাবে গানের রেওয়াজ করতে হয়, সেই হাতেখড়ি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। সেই সূত্রে তাকে গুরু মানতাম। এরপর ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় হরিপদ দাসের কাছে শেখা শুরু করলাম।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান রেকর্ডিংয়ের সময় সমর দাস, রথীন্দ্রনাথ রায় ও অন্যদের সঙ্গেরাজশাহী বেতারে গান গাওয়া শুরু করলেন কীভাবে?

রাজশাহী বেতারে তখন খুব কাজ হতো। ঢাকা থেকে বড় বড় শিল্পী আসতেন। সেই সময় শহরে রটে গিয়েছিল, আমি জুনিয়রদের মধ্যে ভালো গান করি। রাজশাহী বেতারে ‘স্টুডেন্টস ফোরাম’ নামে একটি অনুষ্ঠান শুরু হলো। ছাত্র অবস্থায় সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় যারা মোটামুটি দাগ কাটতে পেরেছে, তাদের নিয়ে অনুষ্ঠানটি করতেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং পরবর্তীকালে জাদুঘরের কিউরেটর আকরাম হোসেন। সেখানে কোনো অডিশন হতো না। ওই অনুষ্ঠানে আমি একটি গান গাইলাম। শুনে বেতারের কর্মকর্তারা বললেন, ‘ও তো খুব ভালো গান গায়। ওর বড় ভাই তো বেতারে গায়ই; আমাদের শিল্পী দরকার, ওকে স্পেশাল অডিশন নিয়ে তালিকাভুক্ত করে নাও।’ অডিশনের ব্যাপারটি তখন খুব স্ট্রিক্ট ছিল। তারা স্পেশাল অডিশন নিয়ে আমাকে তালিকাভুক্ত করলেন। এভাবে আমার পেশাদার

 

রাজশাহীতে আপনার বাড়ি কোথায়?

সাগরপাড়া বলে একটি পাড়া আছে, যেটি রাজশাহীর বনেদি এলাকা, ওখানে আমার বাড়ি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বেশ দূরে, শিবগঞ্জে লছমনপুর নামে খুব বর্ধিষ্ণু একটি গ্রাম আছে, সেখানে নানাবাড়িতে আমার জন্ম ৩১ ডিসেম্বর। সেখানে আমার বাবার তৈরি সেই বাড়ি এখনো আছে।

 

আপনি তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।

হ্যাঁ, প্রথমে অর্থনীতিতে ভর্তি হয়েছিলাম। পরে শিক্ষকরা বললেন, ‘তুমি গান গাও, ইকোনমিকস তোমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’ ভাইও বললেন, ‘না, গান গেয়ে এ বিষয় চালাতে পারবে না।’ ফলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চলে গেলাম। এই বিভাগে বদরুদ্দীন উমর আমার সরাসরি শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি চাকরি ছেড়ে ঢাকায় চলে এলেন। তখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান হলেন ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান। তিনিও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছিলেন।

 

মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেন কীভাবে?

যুদ্ধ শুরুর পর পদ্মা নদী পার হয়ে আমি ভারতে চলে গেলাম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গিয়ে বড় বড় সংগীতজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ হলো— সত্যদা (সত্য সাহা), সমরদা (সমর দাস), সুজেয় শ্যাম, আমার বন্ধু লাকী অাখান্দ। সেখানে সাত-আট মাস ছিলাম। সমরদার অধীনে আমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে একক ও দলীয় গান গেয়েছি। সেখানে আমার জীবন শুরু হয়েছে ‘নোঙর তোল তোল’ গানটি দিয়ে। সমরদার সুর, নয়ীম গহরের লেখা। এমনিতে প্রতি সপ্তাহে কোরাস গান গাইতে হতো; তাই অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছি। তার মধ্যে আমার একক গান ছিল দুটি— ‘যায় যদি যাক প্রাণ, তবুও দেব না দেব না দেব না গোলার ধান’ এবং ‘জাগো, প্রদীপ নিভায়ে দাও’। আমার প্রযোজনায় ছয়টি গান হয়েছিল। , , ,

রফিকুল আলম, আবিদা সুলতানা, মান্না দে, সুবীর নন্দী ও শাম্মী আখতারদেশে ফিরলেন কবে?

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশে ফিরে এলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষকরা বললেন, ‘অনেক গানবাজনা করেছ। তোমার রেজাল্ট ভালো হয়েছে অনার্সে, লেখাপড়ায় মনোযোগ দাও। গান পরে হবে।’ তারপর মাস্টার্সে রেজাল্ট একটু খারাপ হলো, ফোর্থ হয়ে গেলাম। অনার্সে হয়েছিলাম সেকেন্ড ক্লাস সেকেন্ড; কেউ ফার্স্ট ক্লাস পায়নি। তারপরও শিক্ষক বললেন, ‘তুমি একটি ডিজার্টেশন করো, আমি সিনপসিস দিয়ে দিচ্ছি। দু-একটি আর্টিক্যাল ছাপো। আমার ডিপার্টমেন্টে পোস্ট খালি আছে, তোমাকে নিয়ে নেব।’ আমি এক মাস লিভ ভ্যাকেন্সিতে ক্লাসও নিয়েছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে শিক্ষকতার প্রতি আমার আগ্রহ ছিল না। এরপর গানের টানে ঢাকায় চলে এলাম। প্রখ্যাত ফোকলোরবিদ ড. মযহারুল ইসলাম তখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে চাকরি দিলেন। বাংলা একাডেমিতে

বাংলা গানে আমার একটি বিরাট ল্যান্ডমার্ক আছে। শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতা ‘কখনো আমার মাকে’র সুর করেছিলেন সত্যদা, আমার জন্য। গর্ব করে বলতে পারি, সলিল চৌধুরী ছাড়া এরকম গান আর কেউ করেননি

সেটি কী রকম?

বাংলা একাডেমি তো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে সংস্কৃতি বিভাগ ছিল, সেখানেও আমাকে মাঝেমধ্যে কাজ করতে হতো। আর গানের খুব সুযোগ ছিল। প্রতি বছর কমপক্ষে পাঁচ-ছয়টি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং সেগুলো আয়োজন করতে হতো। সেটি গানের ক্ষেত্রে আমাকে খুব সাহায্য করেছে। সেখানে কাজ করার পাশাপাশি ঢাকা বেতারে গান গাইতে শুরু করলাম।

 

বাংলা একাডেমিতে কবে যোগ দিয়েছিলেন?

আমি যোগ দিয়েছি ১৯৭৩ সালের শুরুর দিকে। তখন একটি প্রজেক্ট হলো বাংলাদেশ ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব বিভাগ। এই বিভাগে আমার চাকরি হলো। বিভাগটি পরে অবশ্য গবেষণা প্রজেক্টের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে গেছে। বাংলা একাডেমিতে আমি ৯ বছর বিভিন্ন বিভাগে চাকরি করেিছ। তারপর চলে এলাম বিজেএমসিতে (বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন)। এখানে বেশি দিন ছিলাম না। সিরাজউদ্দিন নামে একজন সিএসপি অফিসার ছিলেন। তিনি বললেন, ‘জুটের কী কাজ করবে? বিসিকে (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা) চলে এসো।’ এখানেও সাংস্কৃতিক আবহ পেলাম। ফলে চাকরির শেষ জীবন পর্যন্ত বিসিকে ছিলাম। জেনারেল ম্যানেজার ইনচার্জ হয়ে ২০১১ কি ২০১২ সালে রিটায়ার্ড করেছি।

 

জীবনসঙ্গী আবিদা সুলতানার সঙ্গে পরিচয় কীভাবে?

১৯৭৩ সালে বারীণ মজুমদার ও কামাল লোহানীর উদ্যোগে এবং সরকারি সংগীত কলেজের আয়োজনে ঢাকা স্টেডিয়ামে একটি মিউজিক কনফারেন্স হয়েছিল। সেখানে আধুনিক গানের শিল্পীদের চেয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী বেশি ছিলেন। নতুন শিল্পী হিসেবে গান গাওয়ার জন্য ডাক পড়েছিল আমাদের। ওখানেই আবিদা সুলতানার সঙ্গে আমাকে লাকী আখান্দ পরিচয় করিয়ে দেয়। তারপর আবিদার সঙ্গে গান করতে করতে সম্পর্ক হয়েছে। সে তখন ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী। অরিজিনালি মানিকগঞ্জের হলেও ওরা তখন ঢাকায় নয়াপল্টনে থাকত। ওদের বাড়িটি এখনো আছে।

 

আপনার শিল্পীজীবনে তার প্রভাব কেমন?

প্রভাব নেই, তবে বিশাল সহযোগিতা আছে। যেমন— কোনো একটি গান গাইতে গেলে সে বলে, ‘এই উচ্চারণ তোমার এরকম করা উচিত।’ এগুলো টেকনিক্যাল ব্যাপার; বললে পাঠক বুঝতে পারবেন না। সংগীতের এমন টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো আমি তাকে দিতে পারি, সেও আমাকে দেয়। সে ভালো শাস্ত্রীয় সংগীত শেখা মানুষ। মিউজিক কলেজে বারীণ মজুমদারসহ বড় বড় ওস্তাদের কাছে গান শিখেছে। ফলে তার সঙ্গে আমার আদান-প্রদানটি খুব ভালো হয়। আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। একে অপরকে চিনতে পারি। পারিবারিক জীবনে সে খুব সংসারী। আমাদের একমাত্র সন্তান ফারশিদ আলম তো এখন বিখ্যাত রক সিঙ্গার। একাত্তর টেলিভিশনে চাকরি করে। ‘বোহেমিয়ান’ নামে ব্যান্ড আছে ওর।

 

আবিদা সুলতানার সঙ্গে আপনার কোনো যৌথ অ্যালবাম বের হয়েছে?

যৌথ অ্যালবামের নাম ‘সম্পর্ক’ ও ‘চেনা অচেনা’। দু-তিনটি মিক্সড অ্যালবামও আছে। সিনেমাতেও আমরা একসঙ্গে গান গেয়েছি। আমাদের যখন বিয়ে হলো ১৯৭৮ সালে, তখন মোটামুটি দুজনেই জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছি। আমাদের বিয়েতে বাংলাদেশের এমন কোনো শিল্পী ছিলেন না, যিনি আসেননি। বিয়ের অনুষ্ঠানে সত্যদা ঘোষণা দিলেন, “এদেরকে আমি কোনো উপহার দিইনি। তবে এমন একটি উপহার দেব, যেটি সারা জীবন থেকে যাবে। আগামী মাসেই আমার প্রযোজনায় একটি ছবি হচ্ছে— ‘উজান ভাটি’ (১৯৮২)। এখানে এদের দুজনকেই জীবনে প্রথম ছায়াছবিতে দ্বৈত গান করাব।” গানটি হলো ‘এক নদীরই উজান ভাটি, আমরা দুটি ধারা’। খুব হিট গান। সত্যি সত্যি এত বড় উপহার আমরা জীবনে আর পাইনি।

 

আপনার উল্লেখযোগ্য গান?

রেডিওর মিউজিক বিভাগের বিখ্যাত কর্মকর্তা তাহের সুলতান একদিন ডেকে বললেন, ‘রবীন্দ্রসংগীত তো করছই, আধুনিকও করতে হবে।’ তিনি একটি গান করেছিলেন, এস এম হেদায়েতের লেখা— ‘তোমাকে যেন ভুলে না যাই’। গানটি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে গেল। রেডিওর গান যে এত তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাবে, কারোরই ধারণা ছিল না। গানটি শুনে ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সত্যদা আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখনকার দিনে সরাসরি ছায়াছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল। কারণ, অভিজ্ঞ শিল্পী ছাড়া ছায়াছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ ছিল না বললেই চলে। সত্যদা বললেন, ‘ফিল্মে একটি গান গাইতে হবে, রাজ্জাক সাহেবের লিপসে।’ ভয় পেয়ে গেলাম। ফিল্মে গান তো করিনি। খুব অদ্ভুত টাইপের একটি গান ছিল, ; — ‘ , ’ ‘’ ‘ ’ ; ‘ ’ () ; ‘ ’ () - ‘ , ’ ‘’ () ‘ ’ ‘ ’ () ‘ ’ , ‘ ’; - ,

ছেলে ফারশিদ আলম, স্ত্রী আবিদা সুলতানা ও পুত্রবধু সাদিয়া খালিদ রীতির সঙ্গেগান নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো গর্ব?

বাংলা গানে আমার একটি বিরাট ল্যান্ডমার্ক আছে। শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতা ‘কখনো আমার মাকে’র সুর করেছিলেন সত্যদা, আমার জন্য। গর্ব করে বলতে পারি, সলিল চৌধুরী ছাড়া এরকম গান আর কেউ করেননি। আমার গানটি সেই অর্থে জনপ্রিয়তা পায়নি। কারণ, এটি সাড়ে পাঁচ মিনিটের গান; ডিউরেশনের কারণে রেডিওতে খুব বাজানো হতো না। এ ছাড়া ‘আশা ছিল মনে মনে, প্রেম করিব তোমার সনে’ গানটির প্রথম চার লাইনের রচয়িতা জহির রায়হান। পরের লাইনগুলো নুরুজ্জামান শেখ লিখে দিয়েছেন; সুর করেছেন শাহনেওয়াজ। গানটি প্রথমে একটি নাটকের জন্য তৈরি করা হয়; পরে চলচ্চিত্র ও অ্যালবামে যুক্ত হয়েছে।

 

টেলিভিশনেও তো আপনার বড় ক্যারিয়ার আছে?

‘এক হৃদয়হীনা’ একই সঙ্গে টেলিভিশন ও রেডিওরই গান। ‘যে আমাকে ভালোবাসেনি’ গানটিও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সে সময় টেলিভিশনে গান একবারই ব্রডকাস্ট হতো। ফলে সেভাবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে টেলিভিশনে অসংখ্য গান পরিবেশন করেছি। সেগুলোর মধ্যে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সত্য সাহার সুর করা ‘বাছা রে বাছা তুই আর একটা দিন বাড়ি থেকে যা’ গানটি খুব মনে পড়ছে।

 

গান গেয়ে তো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার পেতে হলে আবেদন করতে হয়। আমি কখনো আবেদন করে পুরস্কার নিতে চাইনি; তাই পুরস্কার পাইনি। তবে মনে করি, একটা পুরস্কারই পেয়েছি— মানুষের শ্রদ্ধা। সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড ভালোবাসা পেয়েছি। বড় মাপের ডাক্তার যারা, যাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না, তাদের কাছে নির্বিঘ্নে যেতে পেরেছি; কোনোদিন কোনো ডাক্তার আমার ও আবিদার কাছ থেকে কোনো ফি নেননি। এগুলো তো ভালোবাসারই উদাহরণ।

 

আপনার গানের অ্যালবাম?

খুব বেশি না, ছয়-সাতটার মতো। এগুলো বের হয়েছে অ্যালবামের স্বর্ণযুগে। তখন আমরা পুরনো গানই নতুন করে রেকর্ড করতাম। নতুন গানের অ্যালবাম চারটার মতো আছে। সম্মানী বেশ ভালো পেয়েছিলাম। তখন তো আমাদের একটা ভালো সময় গেছে। অ্যালবামগুলো হিটও হয়েছে। ঈশ্বর আমাকে এই ভাগ্য দিয়েছেন। আমার কোনো গান পড়ে যায়নি। একটি গানও হারিয়ে যায়নি।

 

অনেকের মতে, গানের এখন দুরবস্থা চলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?

বাংলাদেশের মানুষ গান শুনবেই। এ দেশের মানুষের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে লোকগান যুক্ত হয়ে আছে। লোকগানই আমাদের বাঁচিয়ে রাখবে; এ দেশের গানকে আবারও তুলে ধরবে।

 

(৮ অক্টোবর ২০২৬, সেগুনবাগিচা, ঢাকা)

রফিকুল আলমসংগীতশিল্পীগ্রামোফোনসাহিত্য
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

    পরীমনিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

    পরীমনিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

    মাধবপুরে পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি

    মাধবপুরে পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি

    শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ অভিনেত্রীর

    শুটিংয়ের ফাঁকে শিল্পীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ অভিনেত্রীর

    একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, চারটি স্থগিত

    একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, চারটি স্থগিত

    ‘পূর্বজন্মে পাপ করলে এ জন্মে বিএনপি করে’, পোস্ট ঘিরে পুলিশ-প্রেস মিনিস্টার বিতর্ক

    ‘পূর্বজন্মে পাপ করলে এ জন্মে বিএনপি করে’, পোস্ট ঘিরে পুলিশ-প্রেস মিনিস্টার বিতর্ক

    বকেয়া বিলের সংযোগ কাটতে গিয়ে হামলার শিকার দুই বিদ্যুৎকর্মী

    বকেয়া বিলের সংযোগ কাটতে গিয়ে হামলার শিকার দুই বিদ্যুৎকর্মী

    রূপান্তরের পথপ্রদর্শক হতে পারে

    রূপান্তরের পথপ্রদর্শক হতে পারে

    আশুগঞ্জে নিজের অস্ত্রের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

    আশুগঞ্জে নিজের অস্ত্রের গুলিতে এসআইয়ের আত্মহত্যা

    কুড়িকৃবি’র স্থান নির্ধারণ প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

    কুড়িকৃবি’র স্থান নির্ধারণ প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

    সারা দেশে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা

    সারা দেশে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা

    গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান

    গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান

    হাসিনার উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে

    হাসিনার উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডিবি হেফাজতে

    এখনো ডিবি কার্যালয়ে ইকবাল সোবহান

    এখনো ডিবি কার্যালয়ে ইকবাল সোবহান

    কংগ্রেস এখন ডেমোক্র্যাটদের, তাতে ট্রাম্পের কী কী সমস্যা

    কংগ্রেস এখন ডেমোক্র্যাটদের, তাতে ট্রাম্পের কী কী সমস্যা

    অনুষ্ঠান
    করতে
    যেতাম।
    এভাবে
    গানের
    শিক্ষা
    দীক্ষা
    শুরু
    হলো।
    আর
    আমি
    যে
    স্কুলে
    পড়তাম
    সে
    এক
    অদ্ভুত
    স্কুল।
    খুব
    নামকরা
    রাজশাহী
    ভোলানাথ
    বিশ্বেশ্বর
    হিন্দু
    একাডেমী
    ।
    সেখানে
    লেখাপড়া
    ও
    সংস্কৃতিচর্চা
    খুব
    ভাইব্রেন্ট
    ছিল
    যা
    আমার
    গানের
    চর্চায়
    সহায়তা
    করেছে।
    গানের
    জীবন
    শুরু
    হয়ে
    গেল।
    আপনারা
    এখন
    স্বাধীন
    বাংলা
    বেতার
    কেন্দ্রের
    যে
    গানগুলো
    শোনেন
    সেগুলো
    আমরাই
    গেয়েছি।
    শরণার্থী
    শিবিরে
    থাকতাম।
    যুদ্ধ
    চলাকালে
    পশ্চিমবঙ্গের
    শ্রদ্ধেয়
    শিল্পী
    কণিকা
    বন্দ্যোপাধ্যায়ের
    কাছে
    রবীন্দ্রসংগীতের
    তালিম
    নিয়েছি।
    বেশি
    দিন
    নয়
    তবুও
    তার
    অনেক
    স্মৃতি
    আছে।
    কীভাবে
    রবীন্দ্রসংগীত
    এবং
    অতুলপ্রসাদের
    গান
    গাইতে
    হয়
    তিনি
    সে
    পাঠ
    আমাকে
    দিয়েছেন।
    চাকরি
    না
    করলে
    আমি
    শিল্পী
    হতে
    পারতাম
    না।
    গজল
    ধরনের
    তখনকার
    দিনে
    এরকম
    গান
    হতো
    না
    একটু
    যদি
    আজ
    নেশাই
    হলো
    তাই
    বলে
    কেন
    মাতাল
    বলো
    ।
    অতিথি
    ছায়াছবির
    গানটি
    রেকর্ডিংয়ের
    পর
    এফডিসিতে
    সাংঘাতিকভাবে
    আমাকে
    নিয়ে
    আলোচনা
    হওয়া
    শুরু
    হলো।
    তার
    পর
    থেকে
    অনেক
    গান
    গেয়েছি।
    বৈশাখী
    মেঘের
    কাছে
    জল
    চেয়ে
    প্রথমে
    ছিল
    রেডিওর
    গান
    পরে
    স্মৃতি
    তুমি
    বেদনা
    ১৯৮০
    ছায়াছবিতে
    নতুন
    করে
    গাইতে
    হলো।
    এর
    সুরকার
    অনুপ
    ভট্টাচার্য
    ও
    গীতিকার
    আবুল
    হায়াত
    মোহাম্মদ
    কামাল।
    আলাউদ্দিন
    আলী
    তখন
    নতুন
    মিউজিক
    ডিরেক্টর
    তিনি
    আমাকে
    নিজে
    থেকে
    ডেকে
    নিয়ে
    নদের
    চাঁদ
    ১৯৭৯
    ছায়াছবিতে
    দু
    তিনটি
    গান
    গাওয়ালেন।
    তার
    মধ্যে
    দয়াল
    কি
    সুখ
    তুমি
    পাও
    সুখের
    ঘরে
    আগুন
    দাও
    গানটি
    জনপ্রিয়
    হলো।
    দখল
    ১৯৮২
    ছায়াছবিতে
    গাইলাম
    ভালোবাসা
    এমন
    একটি
    গান
    ।
    স্বপ্নের
    পৃথিবী
    তে
    ১৯৯৬
    সালমান
    শাহর
    লিপসে
    রয়েছে
    তুমি
    আমার
    মনের
    মানুষ
    ।
    এটি
    সাবিনা
    ইয়াসমীনের
    সঙ্গে
    দ্বৈত
    কণ্ঠের
    গান
    তবে
    ওখানে
    আমার
    সোলো
    অংশও
    ছিল।
    আরেকটি
    বিখ্যাত
    গান
    এক
    হৃদয়হীনার
    কাছে
    আবদুল
    হাই
    আল
    হাদীর
    লেখা
    আলাউদ্দিন
    আলীর
    সুর।
    এমন
    অনেক
    গানই
    গেয়েছি।