ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বটতলার পাঠাগার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারুণ্য লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়ছেন কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। ছবি: লেখক
বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যেই অ্যাকাডেমিক বইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, কবিতা পড়ার আগ্রহ কম দেখা যায়। এসব বই হাতের নাগালে নিয়ে আসতেই ২০১৯ সালের ২০ মার্চ যাত্রা শুরু করে ‘তারুণ্য লাইব্রেরি’। এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ‘তারুণ্য’র উদ্যোগ।
সংগঠনের সভাপতি ইমন হোসেন এমনটাই জানালেন, প্রতি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বসে এই লাইব্রেরি। সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা। গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন পাঠক এখান থেকে বই নিয়ে পড়েন। হলে বা মেসে বই নিয়ে যাাওয়ার সুবিধা আছে। প্রতি মাসে একবার সাািহত্য আড্ডা করে তারুণ্য লাইব্রেরি। পাঠকের মধ্যে বই পর্যালোচনার আয়োজন করা হয়। সবচেয়ে বেশি যিনি বইয়ের পর্যালোচনা করেন, তাকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তারুণ্যের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আইরিন মণি বললেন, ‘জ্ঞানচর্চার প্রসার, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পাঠের অভ্যাস আরও বেশি গড়ে তোলা, তাদের হাতের নাগালে নানা ধরনের বই নিয়ে আসতে আমরা এই লাইব্রেরি গড়ে তুলেছি। এখানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের পাশাপাশি ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম, দর্শন, আত্ম-উন্নয়নের বইও আছে।’ সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদার টাকায় নতুন বই কেনা হয়। হল ও মেসগুলোতে বসবাস করা ছাত্রছাত্রীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘আমাদের তারুণ্য লাইব্রেরি ভ্যান’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে।
বটতলা হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় আড্ডাস্থল। এর বাঁধানো বেদিতে তারুণ্যের কর্মীরা বইগুলো সাজিয়ে রাখেন। এরপর ধীরে ধীরে আগ্রহী পাঠকের আগমন ঘটে। বইপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জানালেন, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও সেমিনার লাইব্রেরিগুলো থেকে বই নিয়ে যাওয়ার সুবিধা নেই। তবে এই লাইব্রেরিতে সেই সুবিধা পাওয়ার তারা বেশ খুশি।
জ্ঞানচর্চার প্রসার, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পাঠের অভ্যাস আরও বেশি গড়ে তোলা, তাদের হাতের নাগালে নানা ধরনের বই নিয়ে আসতে এই লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০
এখানকার নিয়মিত পাঠক আতিকুর রহমান বললেন, ‘সাহিত্যের বই পড়তে আমার ভালো লাগে। তবে তারুণ্যের লাইব্রেরিতে আত্ম-উন্নয়নের বই বেশি আছে। সাহিত্যের বইয়ের স্টক আরও বাড়াতে পারলে ভালো হয়।’ আরেকজন পাঠক ফারজানা আক্তার মুন্নী বললেন, ‘বই পড়তে কোলাহলমুক্ত পরিবেশের প্রয়োজন হয়। যেহেতু এই জায়গা আড্ডার কেন্দ্রস্থল, তাই অন্য কোনো নিরিবিলি স্থানে লাইব্রেরিটি সরিয়ে নিতে পারলে ভালো হবে।’ এ বিষয়ে তারুণ্যের সভাপতি বলেছেন, ‘সাহিত্যের প্রতি যেহেতু বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর আগ্রহ আছে, আমরা এ ধরনের বইয়ের স্টক বাড়ানোর চেষ্টা করব। অনেক সময় আগ্রহী পাঠক
তাদের পছন্দের বই খুঁজতে এসে পান না। এজন্য বইপ্রেমীরা আমাদের লাইব্রেরিতে বই উপহার দিয়ে একে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন।’
সংগঠনটির শুভাকাঙ্ক্ষী ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম নাজমুল হুদা বললেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সেবামূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছে তারুণ্য। এর সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে নিজেদের রুম থেকে বইগুলো আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে ভোগান্তি অনেক। বইগুলো সংরক্ষণ করতে যদি একটি নির্দিষ্ট রুম বা জায়গা পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করা যাবে।’ বই সংরক্ষণ ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা রুম দেওয়া যায় কি না জানতে চাইলে টিএসসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন জানালেন, বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।





