Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় বনস্পতির বৈঠক

গল্পের শুরুটা মুর্শিদাবাদে

এখনো চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন আবু সাঈদ

agamir somoy
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০২
এখনো চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন আবু সাঈদ

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

মেডিকেল কলেজের চাকরি থেকে অবসর নিলেও প্রফেসর মোহাম্মদ আবু সাঈদ যুক্ত আছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায়। কাজ করছেন শিশু-কিশোর আন্দোলন ‘খেলাঘর’-এর সঙ্গে। লিখেছেন সৈয়দ ফরহাদ

প্রফেসর মোহাম্মদ আবু সাঈদের গল্পের শুরুটা মুর্শিদাবাদে। তারপর রাজশাহী। তারও পরে, অনেকটা সময় তার কাটল ময়মনসিংহে। ছোটবেলার পৃথিবী ছিল মাটির ঘর, বাড়িতে কৃষকের আনাগোনা, আর ভূস্বামী বাবার কড়া নজরদারি। জন্মেছিলেন ১৯৪৭ সালের ৬ জুন। ৮০ ছুঁইছুঁই জীবনে, পেছন ফিরে যখন তাকান, তখন মনে হয়— তার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছিলেন গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টার রইস উদ্দিন।

রইস উদ্দিন তার কাছে শুধু শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন দার্শনিক। তিনি প্রায়ই সক্রেটিসের কথা বলতেন। ছোট্ট আবু সাঈদ সেসব মুগ্ধ হয়ে শুনত—

‘জ্ঞানের শুরুটা হয় প্রশ্ন দিয়ে।’

স্যার বুঝিয়েছিলেন, পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা মনে করে তারা সব জানে অথচ প্রকৃত জ্ঞান শুরু নিজের অজ্ঞানতাকে স্বীকার করেই।

সেই শিক্ষাই হয়তো প্রফেসর আবু সাঈদকে একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

একটি ঘটনা আজও তাকে ভাবিয়ে তোলে।

গ্রামের এক কৃষক চাচা একবার বাড়িতে এসে মাটিতে বসে পড়লেন। মা পরে বলেছিলেন, বেঞ্চে বসার নাকি নিয়ম নেই।

কিন্তু ছেলেটির মাথায় তখন অন্য প্রশ্ন ঘুরছে— নিয়মটা বানাল কে? কেন একজন মানুষ বেঞ্চে বসতে পারবে না?

গল্পের শুরুটা মুর্শিদাবাদে। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজে। সেখান থেকে পাস করে ১৯৬৭ সালে ভর্তি হলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। মেডিকেলের জীবন ছিল কঠিন সংগ্রামের। দেশভাগের নির্মম বাস্তবতায় তাদের পরিবার তখন নিঃস্ব প্রায়। টাকা নেই, বই নেই, হোস্টেলের মেসে প্রায়ই খাবার জোটে না।

কিন্তু হাল ছাড়তেন না আবু সাইদ। ততদিনে দারিদ্র্য আর দেশভাগের বিজ্ঞান তার নখদর্পণে। পাঠ নিয়েছেন বাম রাজনীতির।

তবে সেসময় তার সহপাঠী আখতার বানু পাশে না থাকলে জীবনটা সত্যিই আরও কঠিন হয়ে যেত। ফাইনাল ইয়ারে থাকতেই তার শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ স্যার তাকে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডায়াবেটিসের কাট-অফ পয়েন্টকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ডায়াবেটিসের কাট-অফ পয়েন্ট নির্ধারণ করেন ৬। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তার এ গবেষণাকে দেয় স্বীকৃতি

এর মধ্যে ঘটে গেল আরেক ঘটনা। তার সেই সহপাঠিনী— ডা. বানু, যিনি একই সঙ্গে একজন অ্যাথলেট এবং মেধাবী ছাত্রী, দরিদ্র মেডিকেল ছাত্র আবু সাঈদকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলেন। আবু সাঈদের বাবা অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করে সম্মতি দিলেন।

বিয়ের পর দুজনই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালে হালুয়াঘাট রুরাল হেলথ কমপ্লেক্সে বদলি হলেন ডা. আবু সাঈদ। 

তখন বাংলাদেশ সদ্য স্বাধীন দেশ। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভীষণ সীমিত। তিনি বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছিলেন ‘স্যাংস্টেকেন টিউব’-এর অভাব।

একদিন এক কিশোর এলো তার মাকে নিয়ে। বয়স তেরো-চৌদ্দ বছর। লিভার ফেইল করে মা অচেতন। ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সাধারণ নিয়মে এই রোগীর চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব। কারণ স্যাংস্টেকেন টিউব নেই।

অসহায় কিশোর হাতজোড় করে বলছিল, ‘আপনারা আমার মাকে বাঁচান। মা ছাড়া আমার জীবনে কেউ নেই।’

নাম না জানা ওই কিশোরের আকুতি তরুণ আবু সাঈদের সংবেদশীল মনকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। একটু ভিন্নভাবে ভাবলেন। তিনি জানতেন, স্যাংস্টেকেন টিউব না থাকলেও অন্তত রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা দরকার। তিনি রাইলস টিউব ব্যবহারের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন।

মোহাম্মদ আবু সাঈদে ১৯৮২ সালে যোগ দেন বারডেমে। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

হাসপাতালের নার্স পর্যন্ত চমকে উঠেছিলেন। কারণ রাইলস টিউব ব্যবহার করলে ভেরিকোজ ভেইন ফেটে গিয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষরণ হতে পারে।

কিন্তু আবু সাঈদ বুঝেছিলেন, মূল বিপদ শুধু রক্তক্ষরণ নয়; রক্ত পাকস্থলীতে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হলে সেটি মস্তিষ্কে আঘাত করে রোগীকে কোমায় নিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি পরিকল্পনা করলেন— রক্ত জমতে দেবেন না, দ্রুত সাকশন করে বের করে ফেলবেন। একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন।

তার এক শিক্ষককে অনুরোধ করে তিনি ব্লাড ব্যাংকেও আগেভাগে রক্ত প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রোগীটি বেঁচে যায়।
তিনি দাবি করলেন, স্যাংস্টেকেন টিউব ছাড়া বাংলাদেশে এ ধরনের চিকিৎসা সেটিই ছিল প্রথম।

১৯৮২ সালে যোগ দেন বারডেমে। আর সেখানেই শুরু হয় তার আরেক বড় লড়াই। ডায়াবেটিসের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার লড়াই।

তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী, আট ঘণ্টা উপবাসের পর ডায়াবেটিসের কাট-অফ পয়েন্ট ৭ দশমিক ৮ হলে ডায়াবেটিস ধরা হতো। কিন্তু আবু সাঈদ এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করলেন। তার এই চ্যালেঞ্জ একসময় রূপ নিল গবেষণায়। তার গবেষণার ফল দেখাল— বাংলাদেশের মানুষের জন্য ডায়াবেটিসের কাট-অফ পয়েন্ট হবে ৬। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তার এ গবেষণাকে দিল স্বীকৃতি।

বর্তমানে তার তিনটি গবেষণা চলছে। একটি হলো ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত শিশুদের ফ্যাটি লিভার নিয়ে, আরেকটি গ্রামীণ নারীদের মধ্যে সারভিকাল ক্যানসার ও ব্রেস্ট ক্যানসার কী পরিমাণে আছে, তা নিয়ে এবং অন্যটি করোনারি হার্ট ডিজিজ নিয়ে।

পাবনার সাঁথিয়ার ভুলবাড়িয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘ইছামতী খেলাঘর’।২০০০ সালের গোড়ায় তিনি শিশু-কিশোর আন্দোলন খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত হলেন। ময়মনসিংহের নান্দাইলে শুরু করলেন খেলাঘর সংগঠিত করার কাজ। একই সময়ে পাবনার সাঁথিয়ার ভুলবাড়িয়া গ্রামে, যেখানে তার বর্তমান পৈতৃক ঠিকানা, সেখানে গড়ে তুললেন ‘ইছামতী খেলাঘর’। আর এ কাজ করতে গিয়ে প্রথম বাধাটি পেলেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছ থেকে। প্রভাতফেরি, গান, নাটক— মোটকথা সংস্কৃতিচর্চায় যাদের ঘোর আপত্তি। সেসব আপত্তি তিনি আমলে নেননি। শুধু নিজে নন,পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশী সবাইকে নিয়ে খেলাঘর গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে।

আবু সাঈদখেলাঘরআনাগোনাচিকিৎসাবিজ্ঞানীবনস্পতির বৈঠক
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise