জীবনযাপন
আয়-ব্যয়ের নতুন হিসাব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন সাজানোর পরমর্শ দিলেন রেজাউল আহমেদ
খরচের খাত নির্ধারণ: অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ খরচ চিহ্নিত করা। একটি কাগজে বা মোবাইলের নোটে লিখে ফেলুন বাড়ি ভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট, সন্তানের শিক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসা, বিনোদন, ব্যক্তিগত খরচ। এভাবে এক মাস লিখলেই বোঝা যাবে কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে।
ব্যয়ের ধাপ প্রস্তুতকরণ: সব খরচ একরকম নয়। প্রথম ভাগে রাখুন প্রয়োজনীয় ব্যয়— খাবার, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা। দ্বিতীয় ভাগে গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়— ইন্টারনেট, যাতায়াত, জরুরি সামাজিক দায়িত্ব। তৃতীয় ভাগে বিলাস বা অপেক্ষাকৃত কম জরুরি ব্যয়— ঘন ঘন বাইরে খাওয়া, আকস্মিক কেনাকাটা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পোশাক বা প্রসাধনী কেনা। কাটছাঁট শুরু করুন তৃতীয় ভাগ থেকে।
বাজারের তালিকা বদল: খরচ কমানোর অর্থ পুষ্টি কমানো নয়। অনেক পরিবার অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ফল, দুধ বা প্রোটিনজাত খাবার কমিয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বরং মৌসুমি ফল, স্থানীয় মাছ, দেশি সবজি ও পরিকল্পিত বাজারের মাধ্যমে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা বেশি কার্যকর।
চিকিৎসার খরচে অগ্রাধিকার: অর্থনৈতিক চাপে অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। কিন্তু পরে সেটি আরও বড় ব্যয়ে পরিণত হতে পারে। সঞ্চয় করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ছোট ফাঁকফোকর মেরামত: অনলাইনে খাবার অর্ডার, প্রয়োজন ছাড়া রাইড শেয়ার ব্যবহার, হুট করে অনলাইন শপিং বা একাধিক সাবস্ক্রিপশন— এসব খরচ মাস শেষে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ছোট খরচ এড়িয়ে চলুন।
জরুরি তহবিল গড়া: প্রতি মাসে অল্প হলেও কিছু টাকা আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরির অনিশ্চয়তা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে এ সঞ্চয়ই বড় ভরসা হতে পারে।




