শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মসজিদে আগুনের ভিডিওর নেপথ্যে কী

ছবি: আগামীর সময়
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও। এতে দাবি করা হচ্ছে-বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতার একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে হিন্দুরা। ‘সময় সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ৭ মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ এটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন এর সত্যতা নিয়ে।
তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো খতিয়ে দেখা হলে কলকাতায় এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মধ্যেও এ ধরনের ঘটনার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন নেই।
এরপর ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে পাওয়া যায়- এটি নতুন নয়। গত ১০ এপ্রিল ২০২৬-এ ‘Kashmir Post’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি শ্রীনগরের হায়দারপোরা এলাকার একটি মাদরাসায় অগ্নিকাণ্ডের।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনও পাওয়া যায়। ‘On Camera, Flames Leap Into The Air As Fire Breaks Out In Srinagar Mosque’ শিরোনামের ওই খবরে বলা হয়, ১০ এপ্রিল শ্রীনগরের ‘জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম’ মসজিদ ও মাদরাসায় আগুন লাগে। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আগুনের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
একই ঘটনার তথ্য কাশ্মীর অবজার্ভারসহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মসজিদে আগুন দেওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন। ভাইরাল ভিডিওটি আসলে কাশ্মীরের শ্রীনগরে মাসখানেক আগে ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিকাণ্ডের, যা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।







