ফাহিম-নিজামীর ‘হুর’ গানে কাশ্মীরের সুরের জাদু

সংগৃহীত ছবি
কোক স্টুডিও ভারত মানেই শিকড়ের টানে নতুন সুরের সন্ধান। ‘অ্যায় আজনবী’, ‘বুল্লেয়া ভে’ এবং ‘কাচৌড়ি গলি’র মতো সুপারহিট গানের পর, চলতি সিজন ৪-এর চতুর্থ গান হিসেবে এবার হাজির হলো এক টুকরো কাশ্মীর। কাশ্মীরের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘মেহফিল’ এবং গল্প বলার লোকগাথা নিয়ে মুক্তি পেয়েছে এই সিজনের নতুন গান ‘হুর’।
কাশ্মীরের বিখ্যাত গায়ক ফাহিম আবদুল্লাহ এবং ক্লাসিক্যাল ঘরানার দুই নক্ষত্র আরসালান নিজামী ও ওস্তাদ কায়সার নিজামীর মেলবন্ধনে তৈরি এই গানটি ইতিমধ্যে শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দিয়েছে।
কাশ্মীরের সংস্কৃতিতে বহু বছর ধরে একটি সুন্দর রীতি প্রচলিত আছে, যাকে বলা হয় ‘মেহফিল ঐতিহ্য’। এখানে নিভৃত বা একান্ত কোনো ঘরে সংগীতশিল্পীরা জড়ো হয়ে সুরের জাদুতে শোনাতেন রাজা-বাদশাহ, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা সুফি সাধকদের গল্প। ‘হুর’ গানটির মূল অনুপ্রেরণা সেখানেই।
গল্পের মূল চরিত্র ‘শেখ’ এবং ‘হুর’। এই দুই চরিত্রের প্রেম, বিরহ, ভক্তি এবং আকুলতার গল্পই গানে গানে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। গানটির বিশেষত্ব হলো, এর সুর শুধু প্রথাগত লোকসংগীতে আটকে থাকেনি, বরং এর ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার ‘রক সাউন্ডস্কেপ’। লোকগীতি ও আধুনিক রকের এই ফিউশন গানটিকে তরুণ প্রজন্মের কাছেও দারুণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গানটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তরুণ সেনসেশন ফাহিম আবদুল্লাহ বলেছেন, “কাশ্মীরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেভাবে মুখে মুখে গান গেয়ে গল্প শোনানো হতো, ‘হুর’ সেই ধারাকেই রিপ্রেজেন্ট করে। কোক স্টুডিওর এই বড় প্ল্যাটফর্মের কারণে কাশ্মীরের বাইরের শ্রোতারাও আমাদের সংস্কৃতির গভীরতা বুঝতে পারবেন।”
প্রবীণ শিল্পী ওস্তাদ কায়সার নিজামী গানটির মূল দর্শন নিয়ে বলেছেন, ‘কাশ্মীরের মেহফিলে যখন গান গাওয়া হয়, তখন পরবর্তী লাইনে কী ম্যাজিক আসছে তা শোনার জন্য পুরো ঘরের মানুষ শ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে। এই আন্তরিকতা সাধারণত বড় স্টুডিওতে হারিয়ে যায়। কিন্তু কোক স্টুডিও ভারত অতিরিক্ত মিউজিক দিয়ে গানের সেই আসল আত্মাকে নষ্ট না করে একদম নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।’
কোকা-কোলা ইন্ডিয়ার সাউথ-ওয়েস্ট এশিয়ার আইএমএক্স লিড শান্তনু গাঙ্গানে জানান, ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গল্পগুলো লুকিয়ে আছে তার বিভিন্ন অঞ্চলে। কাশ্মীরের এই কাব্যিক রেশকে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে ফাহিম, আরসালান এবং ওস্তাদ কায়সার নিজামী এক অসাধারণ গভীরতা যোগ করেছেন এই ট্র্যাকে।
ভিডিওর শেষাংশে ব্যবহার করা খাঁটি কাশ্মীরি ভাষার একটি বিশেষ অংশ গানটিকে সরাসরি মাটির সাথে জুড়ে দিয়েছে। ইউটিউব ও স্পটিফাইতে রিলিজের পর থেকেই শ্রোতারা গানটির ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে এক মায়াবী সুফি জগতে নিয়ে যায় এই ‘হুর’।





