‘মিউজিক থেরাপিস্ট’ হওয়ার স্বপ্ন

শাপলা পাল -ফেসবুক
জীবিকার তাগিদে দুই দশক আগে সদ্য কৈশোর পেরোনো শাপলা পাল যখন মঞ্চে গাইতে শুরু করেন, তখন নিজেও ভাবেননি একসময় সুরের গবেষণায় মনপ্রাণ ঢেলে দেবেন। অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করা শাপলা সম্প্রতি ঢাকার ‘ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ’ (ইউওডা) থেকে ক্লাসিক্যাল মিউজিকে আবারও মাস্টার্স ডিগ্রি নিলেন। এবার মিউজিক সাইকোলজি নিয়ে গবেষণা করতে চান। গানের সুর কীভাবে মানুষের আবেগ, মনস্তত্ত্ব ও মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে— সেসব জানতে ঘুরে আসতে চান মিউজিক সাইকোলজির অলিগলিতে।
শাপলার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কলেজের করিডরে পা দিতে না দিতেই বাবাকে হারান। শাপলা বললেন, ‘তখন টুকটাক বিভিন্ন প্রোগ্রামে গাইতাম। মিউজিককে সিরিয়াসলি নেওয়ার ভাবনা মাথায় ছিল না। কিন্তু বাবার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়ে স্টেজ পারফরম্যান্স শুরু করলাম।’
২০১৩ সালে চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠে গান গেয়ে জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন শাপলা। বিয়ে করেন করপোরেট অফিসার অরিজিৎ চৌধুরীকে। কোল আলো করে এলো টুইন বেবি। এক ছেলে ও এক মেয়ে; কিন্তু ছেলেকে নিয়ে পড়লেন আরেক সংকটে। হার্টে সমস্যা। শাপলা বললেন, “দুই বছর বয়সে ওকে নিয়ে গেলাম ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. দেবী শেঠির কাছে। চেম্বারের ভেতরে গান। ছেলের তখন মাত্র হালকা বোল ফুটছে। একটু একটু করে গানের কলি আওড়াচ্ছিল। শেঠি বললেন, ‘ছেলেমেয়েরা যদি গানের মধ্যে বড় হয়, অনেক অসুখ এমনিতেই সেরে যায়। সংগীত থেরাপি মানুষের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য।’ তখনই মিউজিক থেরাপি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলো।”
এরপরই শাপলা মাস্টার্সে থিসিস করেন মিউজিক থেরাপি নিয়ে। বললেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে, দেশের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার। একজন মিউজিক থেরাপিস্ট হয়ে এ দেশে ফিরে আসব।’






