বিদ্যুৎ জামওয়ালের হলিউডের ‘স্ট্রিট ফাইটার’ আসছে স্টার সিনেপ্লেক্সে

সংগৃহীত ছবি
‘আ মাইনক্রাফট মুভি’, ‘দ্য সুপার মারিও ব্রোস. মুভি’, ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ ও ‘ফাইভ নাইটস অ্যাট ফ্রেডিস’-এর সাফল্যের পর ২০২০-এর দশকে ভিডিও গেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এবার বড় পর্দায় আসছে ক্যাপকমের জনপ্রিয় হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট গেম ‘স্ট্রিট ফাইটার’। ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে অ্যাকশন ও মার্শাল আর্টভিত্তিক এই সিনেমা। ছবিতে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা বিদ্যুৎ জামওয়াল।
১৯৯৪ সালে কাইলি মিনোগ ও জঁ-ক্লদ ভ্যান ড্যাম অভিনীত সংস্করণের পর নতুন এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সামনে নতুনভাবে হাজির হবে। এতে নোয়া সেন্টিনিও ও অ্যান্ড্রু কোজি অভিনয় করছেন। সবুজ চামড়ার ‘ব্ল্যাঙ্কা’ চরিত্রে দেখা যাবে জেসন মোমোয়াকে। ‘ব্যাড ট্রিপ’ ও ‘দ্য এরিক আন্দ্রে শো’-এর পরিচালক কিতাও সাকুরাই ছবিটি পরিচালনা করেছেন। তার পরিচালনায় সিনেমাটিতে পরাবাস্তব ও হাস্যরসাত্মক আবহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সাকুরাই বলেন, প্রচলিত ভিডিও গেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের মতো নয়, নিজস্ব শৈলীতে কিছু করার স্বাধীনতা তাকে দেওয়া হয়েছিল।
‘স্ট্রিট ফাইটার’ মূলত জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত অ্যাকশন ও মার্শাল আর্টভিত্তিক সিনেমা। এখানে কারাতে, কুংফু, বিভিন্ন ধরনের ফাইটিং স্টাইল, শক্তিশালী যোদ্ধাদের দ্বন্দ্ব এবং বিশ্বকে ঘিরে ষড়যন্ত্র সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি রোমাঞ্চকর জগৎ। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গেমের পরিচিত চরিত্রগুলোকে বড় পর্দায় জীবন্ত করে তোলা। বিশেষ করে রিউ, চুন-লি’র মতো চরিত্রের ভক্তদের কাছে সিনেমাটি বেশ আকর্ষণীয়।
সিনেমার কাহিনি শুরু হয় ১৯৯৩ সালের প্রেক্ষাপটে। রিউ ও কেন মাস্টার্স একসময়কার ঘনিষ্ঠ দুই মার্শাল আর্ট যোদ্ধা পরস্পরের থেকে দূরে সরে গেছে। এমন সময় রহস্যময়ী চুন-লি তাদের আবার লড়াইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনে। তাদের অংশ নিতে হবে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’ নামের এক ভয়ংকর আন্তর্জাতিক ফাইটিং প্রতিযোগিতায়। কিন্তু এটি শুধু শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা নয়। এর পেছনে রয়েছে একটি প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র।
প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি রিউ ও কেনকে নিজেদের অতীত, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হবে। সিনেমায় দুই যোদ্ধার সম্পর্ক, টুর্নামেন্টের উত্তেজনা, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এবং ভিডিও গেমের বিখ্যাত ফাইটিং মুভগুলোকে বাস্তবধর্মী অ্যাকশনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বাস্তবধর্মী মার্শাল আর্ট। কারাতে, কুংফু, দ্রুতগতির কিক ও ঘুষির পাশাপাশি গেমের বিখ্যাত আক্রমণগুলোকে লাইভ-অ্যাকশনে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিচিত্র সব যোদ্ধার সমাবেশ ঘটেছে এখানে। রিউ, কেন, ব্ল্যাঙ্কা, ধালসিম, গাইল ও আকুমার মতো চরিত্রদের নিজস্ব লড়াইয়ের ধরন দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্য আনবে।
নির্মাতা ১৯৯০-এর দশকের আর্কেড গেমের পরিবেশ, রঙিন ভিজ্যুয়াল ও গেমের প্রতি নস্টালজিয়াকে সিনেমায় তুলে ধরতে চেয়েছেন। গেমের পুরোনো আবহকে আধুনিক সিনেমার অ্যাকশনের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ তৈরির কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন, গেমের ভক্তদের প্রত্যাশা। পরিচিত চরিত্র ও তাদের বিখ্যাত আক্রমণগুলো বড় পর্দায় দেখার আগ্রহ রয়েছে দর্শকদের। তারকাদের উপস্থিতির বিষয়টাও উল্লেখযোগ্য। জেসন মোমোয়া, নোয়া সেন্টিনিও এবং রোমান রেইন্সের মতো পরিচিত মুখ রয়েছে এখানে।
এ সিনেমার আরেকটি চমক হলো, ভারতের জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা বিদ্যুৎ জামওয়ালের উপস্থিতি। ক্যাপকমের জনপ্রিয় গেম সিরিজ ‘স্ট্রিট ফাইটার’-এর একটি বিখ্যাত চরিত্র ধালসিমের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে, যিনি ‘ভারতের যোগী’ হিসেবে পরিচিত। যাঁরা এই চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত, তারা ইতিমধ্যেই মুখিয়ে রয়েছেন হলিউডের পর্দায় জামওয়ালের অ্যাকশন দেখার জন্য। তবে যাঁদের কাছে ধালসিমের কীর্তি এখনও অজানা, তাঁদের জন্য বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।





