সিনেমা মুক্তির সময় শাকিব খানকে খুঁজে পাওয়া যায় না কেন?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে এমন অনেক কিছু আছে, যা বছরের পর বছর ধরে এক ধরনের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, সিনেমা মুক্তির ঠিক আগে বা মুক্তির দিন জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যায় না। নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ যখন তুঙ্গে, তখনই যেন তিনি নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নেন।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমা ঘিরে যখন আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি হাসতে হাসতেই বললেন, “ভাইয়া তো সিনেমা রিলিজের আগে গায়েব থাকেন। উনি ফোন-টোন বন্ধ করে মনে হয় ঘুমাচ্ছেন। আমার সঙ্গেও কথা হচ্ছে না।”
মন্তব্যটি ছিল রসিকতার ছলে, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বহুদিনের একটি বাস্তবতা। শাকিব খানের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁর বেশিরভাগ সিনেমার ক্ষেত্রেই মুক্তির সময় প্রচারণার প্রধান দায়িত্ব বহন করেন নির্মাতা, প্রযোজক কিংবা সহশিল্পীরা। অন্যদিকে শাকিব খান অনেকটা দূর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
অনেকের মতে, এটি শাকিব খানের ব্যক্তিগত কৌশল। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি এমন একটি তারকা-ইমেজ তৈরি করেছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই অনেক সময় বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি খুব কম সাক্ষাৎকার দেন, সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না, আবার সামাজিক মাধ্যমেও তুলনামূলক সংযত। ফলে তাঁকে ঘিরে এক ধরনের রহস্যময়তা তৈরি হয়, যা তারকাখ্যাতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
তবে এই কৌশল সব সময় নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির হয় না। বিশেষ করে যখন সিনেমা নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা শুরু হয়, তখন পরিচালকদেরই সামনে এসে জবাব দিতে হয়। ‘রকস্টার’-এর ক্ষেত্রেও সেটিই দেখা গেছে।
সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এর ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও ভিন্ন ধরনের গল্প বলার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ প্রচলিত বাণিজ্যিক উপাদানের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে নায়কের উপস্থিতি নির্মাতার জন্য সহায়ক হতে পারত বলেও মনে করছেন অনেকে।
অবশ্য শাকিব খানের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। প্রতিটি বড় মুক্তির সময়ই তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।









