আজ শাবানার জন্মদিন, এসব ঘটনা জানতেন কি

শাবানা । ছবি: ফেসবুক
দেশের নন্দিত অভিনেত্রীর কথা উঠলেই অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হয় শাবানার নাম। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকার জন্মদিন আজ (১৫ জুন)। ১৯৫২ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে একটি যুগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন শাবানা। ছয় দশকের বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত ক্যারিয়ারে অনেক ব্যবসাসফল ও কালজয়ী চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই তার নাম এখনো থাকে মুখে মুখে।
প্রয়াত এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ (১৯৬২) চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে রত্না নামেই যাত্রা শুরু। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় নৃত্যশিল্পী ও অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
এহতেশামের দেওয়া শাবানা নামে নায়িকা চরিত্রে প্রথম দেখা যায় ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’তে। এটি ব্যবসাসফল হওয়ায় তারকা বনে যান। একপর্যায়ে হয়ে ওঠেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। পারিবারিক, সামাজিক কিংবা নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, জসীম, সোহেল রানা, নাদিমসহ বিভিন্ন প্রজন্মের অভিনেতাদের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় ৩০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবানা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য– ‘ভাত দে’, ‘অবুঝ মন’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘ওরা এগারো জন’, ‘বিরোধ’, ‘আনাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘জীবনসাথী’, ‘মাটির ঘর’, ‘লুটেরা’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কেউ কারো নয়’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘স্বামী কেন আসামি’, ‘দুঃসাহস’, ‘পুত্রবধূ’, ‘আক্রোশ’, ‘চাঁপা ডাঙার বউ’ প্রভৃতি।
অভিনেত্রী হিসেবে শাবানার মতো প্রাপ্তি ঢালিউডে আর কারও ঝুলিতে নেই। অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে আটবার, ‘জননী’র জন্য (১৯৭৭) সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে একবার এবং ‘গরিবের বউ’-এর (১৯৯০) জন্য প্রযোজক হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সখী তুমি কার’ (১৯৮০), ‘দুই পয়সার আলতা’ (১৯৮২), ‘নাজমা’ (১৯৮৩), ‘ভাত দে’ (১৯৮৪), ‘অপেক্ষা’ (১৯৮৭), ‘রাঙা ভাবী’ (১৯৮৯), ‘মরণের পরে’ (১৯৯০), ‘অচেনা’ (১৯৯১) সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী হন তিনি। ২০১৭ সালে তাকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।
১৯৭৩ সালে ২১ বছর বয়সে তৎকালীন সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে জড়ান শাবানা। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশন্সের দেখাশোনা করতেন তিনি। তাদের দুই মেয়ে সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন।
দেশীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সম্মানিত শিল্পীর মর্যাদা পেয়েছেন শাবানা। ১৯৯৭ সালে হঠাৎ নিজের ক্যারিয়ার থামিয়ে চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন তিনি। এরপর সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। ২০০১ সালে মুক্তি পায় তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’। অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পরও ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। এখনো তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে অনুপ্রেরণার এক নাম।
একনজরে শাবানা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্ম।
প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না।
শিশু শিল্পী হিসেবে প্রথম সিনেমা ১৯৬২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নতুন সুর’।
নায়িকা হিসেবে প্রথম সিনেমা ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চকোরী’ ।
সর্বশেষ সিনেমা ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’।
১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯৯৭ সালে হঠাৎ অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন।
২০১৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।




