মারা গেছেন জ্যাজ সংগীতের কিংবদন্তি আবদুল্লাহ ইব্রাহিম

জ্যাজ সুরকার ও পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম
দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতনামা জ্যাজ সুরকার ও পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম মারা গেছেন। গতকাল সোমবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন দীর্ঘ সংগীত জীবনে ৭০টিরও বেশি অ্যালবাম রেকর্ড করা এই প্রখ্যাত শিল্পী। পরে জার্মানিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
তার সঙ্গী ড. মেরিনা উমারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দেশটির জনগণকে হৃদয়ে ধারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিয়েছেন আবদুল্লাহ ইব্রাহিম। তিনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, নিজের দেশের প্রতি তার ভালোবাসা ম্লান হয়নি কখনো।
কেপটাউনে অ্যাডলফ জোহানেস ব্র্যান্ড নামে জন্ম নেওয়া এই সংগীতশিল্পী মাত্র সাত বছর বয়সেই শুরু করেন সুরচর্চার যাত্রা। ১৫ বছর বয়সে পেশাদার সংগীতজীবনে প্রবেশ করেন তিনি।
১৯৫০-এর দশকে স্থানীয় জ্যাজ অঙ্গনে ডলার ব্র্যান্ড নামে পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে ‘দ্য জ্যাজ এপিসেলস’ ব্যান্ডের সঙ্গে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তাদের ‘জ্যাজ এপিসেল ভার্স ওয়ান’ অ্যালবামটি ছিল কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান শিল্পীদের রেকর্ডকৃত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য জ্যাজ এলপি। সংগীত সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা না দিলেও, তৎকালীন বর্ণবাদী সরকারের দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের।
১৯৬০-এর দশকে ইউরোপে চলে যান তিনি। সেখানে আমেরিকান জ্যাজ কিংবদন্তি ডিউক এলিংটনের নজরে আসেন তিনি। পরে এলিংটন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান তাকে। এরপর জ্যাজের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণে নিজস্ব একটি অনন্য ধারা তৈরি করেন আবদুল্লাহ ইব্রাহিম। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত ট্র্যাক ম্যানেনবার্গ দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও কখনো নিজের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হননি তিনি। সুযোগ পেলেই দেশে ফিরে সংগীত পরিবেশন করতেন। মাত্র তিন মাস আগে কেপটাউন আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসবে তিনি শেষবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করেন।
সংগীতের পাশাপাশি একাধিক চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও তৈরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে ফরাসি নির্মাতা ক্লেয়ার ডেনিস পরিচালিত ‘নো ফিয়ার, নো ডাই’ এবং ‘চকোলেট’ উল্লেখযোগ্য।




