খাদ্য প্যাকেটে চিনি-লবণের তথ্য নেই

সংগৃহীত ছবি
অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্যাকেটের সম্মুখভাগে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) বাধ্যতামূলক করা হলে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়বে এবং মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। গতকাল রবিবার বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ‘অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং করণীয়: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তুলে ধরা হয় এসব তথ্য ও সুপারিশ।
বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবসের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্রম বারডেন টু সলিউশন: সেফ ফুড এভরিহোয়্যার’।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। অতি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাট অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তার মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। এর ফলে তারা আরও সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেছেন, ‘বিশ্বে ৪৪টি দেশ এরই মধ্যে এফওপিএল চালু করেছে এবং এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আমরা আশা করি, দ্রুত এটি চালু করতে পারব।’
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এফওপিএল বাস্তবায়িত হলে এটি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ৪ (অসংক্রামক রোগ হ্রাস) অর্জনের পথকে আরও সুগম করবে।’
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন্নাহার নাহিদ বলেছেন, ‘প্যাকেটজাত খাবারে থাকা স্বাস্থ্যহানিকর উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।’
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কনসালট্যান্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। এতে নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।




