দেশে প্রথম ‘অল-ইন-ওয়ান’ ইনসুরটেক প্ল্যাটফর্ম চালু
- ল্যাবএইড আনল ডিজিটাল বীমা সেবার নতুন যুগ

সংগৃহীত ছবি
দেশের বীমা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা করে ল্যাবএইড ইনসুরটেক কোম্পানি লিমিটেডের সফট লঞ্চ আজ রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল-ফার্স্ট এই ইনসুরটেক প্ল্যাটফর্মটি সহজ, সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তি-সক্ষম বীমা সেবা সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবে। দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতি ও গ্রাহকবান্ধব আর্থিক সেবার চাহিদাকে সামনে রেখে এই প্ল্যাটফর্মটি ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে সহজেই বীমা সেবা নিতে পারেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ল্যাবএইড গ্রুপের কর্ণধার, এই উদ্যোগের ফাউন্ডার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীমের দূরদর্শী নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনায় তার অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত অতিথিরা।
তার নেতৃত্বেই ল্যাবএইড গ্রুপ স্বাস্থ্যসেবার আস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ল্যাবএইড গ্রুপের ডিরেক্টর ডা. সুচরিতা আহমেদ, ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ডিরেক্টর মাসতুরা ফারজানা মোহনা এবং ল্যাবএইড ইন্সুরটেকের সিইও শরিফ মোহাম্মদ আবিদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীমা খাতের শীর্ষস্থানীয় অংশীদার ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে রয়েছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মাইক্রোমাস্টার ইন্স্যুরেন্স বেলজিয়াম, এবং শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অনুষ্ঠানটি ছিল প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আর্থিক নিরাপত্তা কেন্দ্র করে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মিলনমেলা, যেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বীমা খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ল্যাবএইড ইনসুরটেকের এই নতুন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এক প্ল্যাটফর্মেই পেয়ে যাবেন হেলথ ইন্স্যুরেন্স, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মোটর/ভেহিকল ইন্স্যুরেন্স, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, পেট ইন্স্যুরেন্স, ক্রপ ইন্স্যুরেন্স, ডিভাইস ইন্স্যুরেন্স এবং প্রর্পাটি ইন্স্যুরেন্সসহ বিস্তৃত বীমা সেবা। একই সঙ্গে অ্যাপটিতে রয়েছে অনলাইন ক্লেইম সাবমিশন, দ্রুত ক্লেইম সেটেলমেন্ট, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, ই-কেওয়াইসি, ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা, ২৪/৭ ডাক্তার কনসালটেশন এবং এআই-ভিত্তিক কাস্টমার সাপোর্ট।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এটি বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এআই পাওয়ার্ড ইন্স্যুরেন্স ই-কেওয়াইসি সিস্টেম, যা গ্রাহকের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সিমলেস করে তুলবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, নির্দিষ্ট যোগ্য ক্লেইমের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ক্লেইম নিষ্পত্তির সক্ষমতা এই প্ল্যাটফর্মকে বাজারে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে যাবে। এছাড়া এআই ডিভ্রেন ফ্রড ডিটেকশন, স্মার্ট আন্ডাররাইটিং এবং প্রিডেকটিভ অ্যানালিটিসের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হবে।
ল্যাবএইড ইনসুরটেক কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের বীমা খাতকে আরও স্বচ্ছ, সহজলভ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। ল্যাবএইড ইনসুরটেক অ্যাপে শুধু একটি সেবা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি স্মার্ট সমাধান।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ল্যাবএইড গ্রুপের স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের আস্থা ও সুনামকে ভিত্তি করে এই ইনসুরটেক উদ্যোগ মানুষের জীবনের বিভিন্ন ঝুঁকিকে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যক্তি, পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক বীমা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তি ও নিরবচ্ছিন্ন সাপোর্ট আমাদের সেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে এমবেডেড ইনস্যুরেন্স, ইউজেস বেজড-ইনস্যুরেন্স এবং মাইক্রো ইনস্যুরেন্স , গ্রুপ ইনস্যুরেন্স সলিউশনস যুক্ত করা হবে, যাতে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীও সহজে বীমা সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে।
ল্যাবএইড ইনসুরটেক ইতোমধ্যে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং অন্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে দেশের বিভিন্ন স্তরের গ্রাহক, বিশেষ করে মাইক্রো বিজনেস ও সাধারণ পরিবারগুলো সহজে বীমা সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেবা নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে এবং গ্রাহকরা একটি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম পাবেন।
এই সফট লঞ্চের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ইনসুরেন্স ইকোসিস্টেমে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের বীমা খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কাঠামোয় রূপান্তর করতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং গ্রাহকদের মধ্যে বীমা বিষয়ে সচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ল্যাবএইড ইনসুরটেকের মূল ভিশন হলো ‘Transforming Bangladesh’s Insurance Future through Intelligent, Human-Centered Technology’, যা দেশের মানুষের আর্থিক সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

