সরবরাহ কম, বাড়ল সবজি-পেঁয়াজ-মুরগির দাম

ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকার বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে সবজি, পেঁয়াজ ও মুরগির দাম বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, সীমিত পরিবহন চলাচলের কারণে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সেই বাড়তি খরচ পণ্যের দামে যোগ হয়েছে।
মিরপুর-২, শেওড়াপাড়া ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজি ভোটের আগের সময়ের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোটের কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। এতে বেচাকেনা কমে গেছে। বাড়তি খরচের কারণে অনেক দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা শুক্রবার বাজারে সবজি আনেননি। কয়েকটি দোকান বন্ধও ছিল।
শেওড়াপাড়া বউবাজারের বিক্রেতা মামুন বলেন, সরবরাহ যেমন কম, তেমনি ক্রেতাও কম। তাই ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বাড়লেও এখনো সহনীয় পর্যায়ে আছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রেতা থাকলে দাম আরও বেড়ে যেত।
সেগুনবাগিচার বিক্রেতা ইয়াছিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কারওয়ান বাজারে সবজির আমদানি কম হয়েছে। ফলে শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপি কিনতে পারেননি। এসব পণ্য আজ তাঁর দোকানে নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেগুন, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, বাঁধাকপি ও ফুলকপির মতো সবজি এক থেকে দুই দিনের বেশি রাখা যায় না। এর বেশি সময় হলে পচন শুরু হয়। ভোট উপলক্ষে যানবাহন চলাচল সীমিত থাকায় সরবরাহ কমেছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শসা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেশি। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, যা ভোটের আগের চেয়ে প্রায় ৪০ টাকা বেশি।
এ ছাড়া শিম, মুলা ও পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম বেড়ে কেজিতে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় উঠেছে।
পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা।
তবে তেল ও চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ডিমের দামও স্থিতিশীল। প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

