সরকারের হুঁশিয়ারির পর এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলপি গ্যাস সমবায় সমিতির নেতা আবু তাহের।
এর আগে এদিন দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন সমিতির নেতারা।
বৈঠক শেষে ব্যবসায়ী নেতা আবু তাহের আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। আগামী ২৯ তারিখ এ নিয়ে গণশুনানি হবে। এরপর তাদের দাবির বিষয়টি চূড়ান্ত করবে বিইআরসি।
অন্যদিকে, এদিন সকালে মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার এলপিজির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চায়। ধর্মঘটের চেষ্টা করে দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না।’ এ সময় দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির পর সরকার একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কেউ কারসাজি করলে বা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে সরকার কঠোর হাতে তা দমন করবে।’
তিনি জানান, সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তবে দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিডেট ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশ জুড়ে সব এলপিজি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান ওইদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে দুই দিনের পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকা হবে।
ওইদিন পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা ও হয়রানি বন্ধসহ ৭টি দাবি জানান তিনি।
গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এই দামে কোথাও মিলছে না এলপিজি। বিক্রেতারা ইচ্ছাসতো ৪০০-৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন সিলিন্ডার প্রতি।
তবে এলপিজি অপারেটররা জানিয়েছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন। বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।




