শিক্ষার খোলনলচে পাল্টানোর বাজেট
- ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটির বাজেট প্রস্তাব, গত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার, যা দেশের বাজেটের ইতিহাসে রেকর্ড। এই বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, স্কুল ফিডিং, ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ২ হাজার ৪০০ রোবটিকস-স্টেম ল্যাব স্থাপনের মতো একগুচ্ছ যুগান্তকারী উদ্যোগ ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেটে শিক্ষাকে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের রূপরেখার পথ দেখালেন।
বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। গত বছর শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ছিল, এবার তা বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার তিনটি বিভাগের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৩২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।
বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষতা ও কর্মমুখিতাকে, যা বাস্তবায়নে এখন ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এবার মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ করা হবে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরবরাহ করা হবে বিশেষ শিক্ষা সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম। প্রাথমিক স্তরে নতুন করে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং ও মিড-ডে মিল কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হবে।




