মুনাফা ও আমানত কমেছে ৯ বিদেশি ব্যাংকের

সংগৃহীত ছবি
দেশে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা দুটোই কমেছে। এক বছরে এসব ব্যাংকের মোট আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা। আর মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম : প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে ব্যাংকগুলোর মোট আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া গত জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফার পরিমাণ কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমে আসে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা।
তবে মুনাফা ও আমানত কমে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি প্রতিবেদনটিতে।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে— দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ (এসসিবি), সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ।
এসব ব্যাংকের আমানতের বড় অংশই কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ। গত জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে যে আমানত ছিল তার মধ্যে ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা এ ধরনের হিসাবে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে বিদেশি মুদ্রায় খোলা হিসাবে। এ ধরনের হিসাবে রয়েছে ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া মেয়াদি বা স্থায়ী আমানত রয়েছে ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। সাধারণত ব্যাংকে স্থায়ী বা মেয়াদি আমানতের সুদহার বেশি থাকে। কিন্তু বিদেশি ব্যাংকে এই ধরনের আমানত কম রাখা হয়।
এদিকে কম সুদের আমানত বেশি থাকার পরও বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ সংযত। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের জুন শেষে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বিদেশি ব্যাংকের দেওয়া ঋণ এক বছরে বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা।
তাদের দেওয়া ঋণের বড় অংশই গেছে শিল্প খাতে। গত জুনে এই খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে কম ঋণ পরিবহন ও নির্মাণ খাতে। পরিবহন খাতে গত জুনের শেষে তাদের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে নির্মাণ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৪২৮ কোটি টাকা।



