চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
‘বহুত বাইড়া গেছো’-অনিয়মের প্রশ্ন তোলায় ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকি

বিকেনগর চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে চাল। চালের মধ্যে মিলেছে পোকাও।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জেলে ও বিতরণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তবে এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিলেন চেয়ারম্যান এসকান্দার। তার দাবি, ‘নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।’
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদদের হুমকিও দিলেন এই চেয়ারম্যান। উত্তেজিত ভাষায় বললেন, ‘আমি এসকান্দার ভূঁইয়া কইলাম, বেশি বাড়াবাড়ি করিও না।’
বুধবার বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওজন মাপার যন্ত্রের মাধ্যমে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ওই দিন ইউনিয়নের ৮০ জন জেলের মধ্যে চাল বিতরণ চলছিল। তবে জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজনকে ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ সময় বিতরণ করা চালের মধ্যে পোকা থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। নিম্নমানের ও পোকাযুক্ত চাল নিতে চাননি জেলেরাও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের ২৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু বিতরণের সময় তাদের কম চাল দেওয়া হচ্ছে। এর ওপর চালের মধ্যে পোকা থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। সরকারি সহায়তা নিতে এসেও প্রত্যাশিত পরিমাণ ও মানের চাল পাচ্ছেন না তারা।
বিতরণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিকের দাবি, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই চাল কম দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমার এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।’
এ সময় চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান। ‘তোমরা বহুত বাইড়া গেছো। একটু কমাইয়া বাইড়ো। আমি এসকান্দার ভূঁইয়া কইলাম, বেশি বাড়াবাড়ি করিও না।’
চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজহারুল ইসলামকে বলেছেন, ‘আমি থাকাকালীন কোনো চাল কম দেওয়া হয়নি। কৃষি অফিসে মিটিং থাকায় চলে এসেছি। পরে কম দিয়ে থাকতে পারে।’
চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ও চালের মধ্যে পোকা থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের কাছে। তিনি বললেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। এমন কিছু হয়ে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



