কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড মেহেন্দিগঞ্জ, বিদ্যুৎহীন বহু এলাকা

ছবি: আগামীর সময়
কালবৈশাখীতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বড় ধরনের ক্ষতি হয়। অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
ঈদুল আজহার আগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মেঘনাপাড়ের এই দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দারা। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার চুনার গ্রামে হানিফ পোদ্দারের বাড়ির ওপর একটি বিশাল চাম্বল গাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘরের বারান্দাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরে থাকা তিন সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
হানিফ পোদ্দারের স্ত্রী জানান, তীব্র বাতাসের মধ্যে হঠাৎ ভাঙচুরের শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে দেখতে পান, বাড়ির পেছনের বিশাল চাম্বল গাছটি ঘরের ওপর ভেঙে পড়েছে।
শুধু হানিফ পোদ্দারের বাড়িই নয়, কালিকাপুর এলাকার শান্ত ইসলামের ঘরসহ আরও অনেক বাড়ি গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, চারদিকে নদীবেষ্টিত এই দ্বীপ উপজেলাটি কোরবানির ঈদের আগের দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে আছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসন ও বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মেহেন্দিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ডিউটি ম্যান মামুন জানান, ঝড়ে ফায়ার স্টেশনের একটি আমগাছ ও একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও ভেঙে পড়েছে। তবে কোথাও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে পৌঁছেনি।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঝড়ে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া গাছ পড়ে তার ও খুঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেইন লাইন মেরামত করা গেলে আগামীকাল কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে সময় লাগছে। তাই বিদ্যুৎ ফেরাতে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রাহকদের।






