বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী: শতবর্ষী হিলি রেলওয়ে স্টেশন

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত ঘেঁষে ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হিলি রেলওয়ে স্টেশন। প্রায় দেড় শতাব্দীর ইতিহাস বয়ে চলা এই স্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশনই নয়, বরং উপমহাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জীবন্ত স্মারক।
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হিলি রেলওয়ে স্টেশনটি চিলাহাটি–পার্বতীপুর–সান্তাহার–দর্শনা রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নির্মিত হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন ছিল এটি। সে সময় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে স্টেশনটির ছিল বিশেষ গুরুত্ব।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সীমান্তরেখা হিলি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। এর ফলে ভারতের একটি অংশ সীমান্তের ওপারে চলে গেলেও হিলি রেলওয়ে স্টেশনটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই থেকে যায়। সীমান্তের একেবারে কোলঘেঁষে অবস্থান হওয়ায় এটি দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী রেলস্টেশনে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানেও স্টেশনটি যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সীমান্তঘেঁষা অনন্য অবস্থান এবং শতবর্ষী স্থাপত্য প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু, ইতিহাসপ্রেমী ও রেলপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। সীমান্তের কাছ থেকে ট্রেন চলাচল দেখার অভিজ্ঞতা অনেক দর্শনার্থীর কাছে ভিন্নমাত্রার অনুভূতি এনে দেয়।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে হিলি রেলওয়ে স্টেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে আরও পরিচিতি লাভ করবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সীমান্তের অনন্য আবহ একসঙ্গে ধারণ করে আজও সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী হিলি রেলওয়ে স্টেশন।





