শায়েস্তাগঞ্জ
টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে ১৪০ ফুট নিচ থেকে বের হলো আগুন

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সাবমার্সিবল টিউবওয়েলের পাইপ বসানোর সময় প্রায় এক ঘণ্টা আগুন জ্বলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে গ্যাসক্ষেত্র থাকতে পারে এমন গুজবে স্থানীয়দের ভিড় জমেছে ঘটনাস্থলে।
গত বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বাগুনিপাড়া এলাকায় শাহ আরজু মিয়ার বাড়িতে। ওই সময় সাবমার্সিবল টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ চলছিল। প্রায় ১৪০ ফুট গভীরে পাইপ বসানোর পর হঠাৎ আগুনের ফুলকি বের হতে শুরু করে। একেকবার আগুনের শিখা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ ধরনের স্প্রে ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পাইপের মুখ পাটের বস্তা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়। বর্তমানে টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শায়েস্তাগঞ্জ ছাত্রদলের নেতা শামছুল আলম রিপন। তার ভাষ্য, ঘটনাস্থলে তখন শতাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই বলাবলি করছিলেন, শাহ আরজু মিয়ার বাড়িতে হয়তো প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। পরে পৌর কাউন্সিলরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আরিফুল হকের মোবাইল ফোন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জরুরি সেবার নম্বরে যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন জানান, স্প্রে ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পাইপের মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে। বিস্তারিত বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানাতে পারবেন।
জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির হবিগঞ্জ এলাকার প্রধান মো. আক্কাছ আলীর ভাষ্য, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দাহ্য গ্যাস তৈরি হতে পারে। তবে ঘটনাটি নিয়ে যেহেতু আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাই বিষয়টি পরিদর্শন করে দেখা হবে।
শাহ আরজু মিয়ার ভাই জালাল শাহ মোবাইল ফোনে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বাড়ির ওই অংশটি আগে নিচু ও চারার জমি ছিল। সেখানে প্রচুর গাছপালা ছিল, যা গত ৫০ বছরে কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে জায়গাটি ছোট একটি টিলার মতো হয়ে গেছে।




