‘আমরা এক দখলবাজকে হটিয়ে আরেক দখলবাজ চাইনি’

ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬০ মাস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ্বলন— সংগৃহীত
আমরা এক দখলবাজকে হটিয়ে আরেক দখলবাজ চাইনি বলে মন্তব্য করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেছেন, আমরা ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি, বৈষম্যের অবসান চেয়েছি, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা চেয়েছি।
তিনি আরও বললেন, শামীম ওসমানের পরিবারের লুটপাট, চাঁদাবাজির সকল ক্ষেত্র এখন বিএনপির দখলে। তারা দেদারসে পরিবহন, হাটবাজার, ঘাট, বিভিন্ন স্ট্যান্ডসহ সমস্তকিছু থেকে চাঁদা নিচ্ছে। প্রশাসন-পুলিশ জানলেও কোন ব্যবস্থা নেই। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ এমন হওয়া কথা ছিল না।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬০ মাস উপলক্ষে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।
রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার ত্বকীকে হত্যা করেছিল। শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে সেই ঘাতকদের রক্ষার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয় নাই, পালাতে হয়েছে। আমরা এখনো এই সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তাই ত্বকী হত্যা বিচার চাই। সাগর-রুনি, তনু, নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠুসহ চব্বিশের ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের সকল শহীদের বিচার চাই।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কাজল হালদার জবারবন্দি দেয়।
তারা জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।





