মাধবপুর
সিগন্যাল চুরিতে বাড়ছে ট্রেন দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের মাধবপুরের নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে সিগন্যালিং সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা।
শাহজীবাজার রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল ক্যাবল একাধিকবার চুরি হওয়ায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ক্রসিং বন্ধ রয়েছে। ফলে জয়ন্তিকা, পাহাড়িকা, কালনী ও পারাবত এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনকে নোয়াপাড়ায় ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে একটি চিত্র দেখা যায় নোয়াপাড়া স্টেশনে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে নোয়াপাড়ায় পৌঁছায়। তখন সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এখনও শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে পৌঁছেনি। এরপরও ঢাকা কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে সিলেটগামী ট্রেনটি নোয়াপাড়ায় অপেক্ষা করে।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা স্টেশনে পৌঁছালে দুই ট্রেনের ক্রসিং সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে সিলেটগামী ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। এতে প্রায় ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়।
নোয়াপাড়া স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী আব্দুল কাদের বললেন, আধাঘণ্টার বেশি সময় ট্রেনে বসে থাকতে হয়েছে। শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা বেশি কষ্ট পেয়েছেন।
আরেক যাত্রী রোকেয়া বেগম জানালেন, মাঝপথে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হওয়ায় সময় নষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে।
নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এস এম মনির হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, শাহজীবাজার স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল থাকায় নোয়াপাড়ায় দুই জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ক্রসিং করাতে হয়েছে। ট্রেন পরিচালনা ও সিগন্যালিং সংক্রান্ত নির্দেশনা ঢাকা কন্ট্রোল রুম থেকে আসে, আমরা তা বাস্তবায়ন করি।
কুলাউড়া অঞ্চলের রেলওয়ের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআইটি) শাহজাহান পাটোয়ারী বললেন, ট্রেন চলাচল ও ক্রসিংয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ঢাকা কন্ট্রোল রুম নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা কন্ট্রোল রুম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, শাহজীবাজার রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা দ্রুত সচল ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে আন্তঃনগর ট্রেনের বিলম্ব এবং যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে।





