ভারত-ভুটানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না মধ্যপাড়ার পাথর

সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডে আন্তর্জাতিক মানের পাথর উৎপাদন হলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেশী ভারত ও ভুটান থেকে কম দামে পাথর আমদানির কারণে দেশীয় পাথর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে খনির ডাম্পিং ইয়ার্ডে জমে উঠছে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত পাথর।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে তাদের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে প্রায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার টন পাথর মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ব্লাস্ট পাথর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন এবং বোল্ডার প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন। বিক্রি না বাড়লে অচিরেই উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা প্রায় ৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রাফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়াই মূল সমস্যা। পাথরের ওপর বাড়তি রয়্যালটি, বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানিতে সিটিভ্যাট, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত অর্থের ওপর কর ও ভ্যাট এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধি— সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তার ভাষ্য, এসব কারণে দেশীয় পাথরের দাম ভারত ও ভুটানের পাথরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সাল থেকে প্রতি টন পাথরের মূল্য ২২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। পাথর বিক্রি না হলেও ৫ শতাংশ হারে রয়্যালটি দিতে হচ্ছে, যা আগে ছিল ২.৫ শতাংশ। পাশাপাশি বিক্রয় মূল্যের ওপর অগ্রিম আয়কর ও সিডি ভ্যাট আরোপের ফলে খরচ আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানিতে তুলনামূলক কম শুল্ক থাকায় আমদানি খরচ কম পড়ে। এ কারণে দেশীয় ঠিকাদাররা বিদেশি পাথর কিনতেই বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডি এম জোবায়েদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বছরে পাথরের চাহিদা ৩ কোটি টনের বেশি হলেও মধ্যপাড়ায় উৎপাদন হয় মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন, যা মোট চাহিদার ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ফলে দেশ এখনো আমদানিনির্ভর। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইয়ার্ডে জায়গা সংকট তৈরি হয়ে উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি বাড়বে।
পাথর বিক্রি বাড়াতে কোম্পানিটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, আমদানি করা পাথরের শুল্কায়ন বাড়ানো এবং দেশীয় পাথরের ওপর ভ্যাট, কর ও রয়্যালটি যৌক্তিক হারে কমানো হলে উৎপাদন খরচ কমবে। একই সঙ্গে বিস্ফোরক আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হলে খনিটি আবার লাভজনক হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।



