ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী চিরুনি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮০৯

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকা জেলায় পরিচালিত সপ্তাহব্যাপী বিশেষ চিরুনি অভিযানে ৮০৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল মাদকদ্রব্য, চোরাই যানবাহন ও বিভিন্ন মালামাল।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
পুলিশ সুপার জানান, ৮ জুন থেকে ১৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অভিযানে সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ দমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযানে সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন ডাকাত, ৩৫ জন চোর এবং ১৯ জন ছিনতাইকারী রয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২১৬টি গাড়ির ব্যাটারি, দুটি ট্রাক, একটি হাইএস গাড়ি, একটি সিএনজি, তিনটি অটোরিকশা এবং পাঁচ কেজি তামার তার।
মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৬ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৮ পিস ইয়াবা, ২৫ কেজি গাঁজা, ৮২ গ্রাম হেরোইন এবং ৫৬ লিটার মদ।
এছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৯৬ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন নিয়মিত মামলার আরও ১৩৫ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পৃথক অভিযানে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেছেন, অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল গত ৮ জুন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় কুখ্যাত ডাকাত সনি ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার। সনির নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজেন্দ্রপুর, ওয়াসা পানি শোধনাগার এলাকা এবং প্রিয়াঙ্গন এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে চলাচলকারী সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল।
এছাড়া বসুন্ধরা রিভারভিউ এলাকায় বাসাবাড়ির গ্রিল কেটে চুরি করা চক্রের মূলহোতা ওয়াসিম মিয়া ওরফে কালা ওয়াসিম এবং তার সহযোগী নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে শতাধিক মামলার আসামি ব্রিফকেস হান্নান ও তার সহযোগীসহ ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর বাবু হত্যা মামলার এক আসামিকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেছেন, ‘অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ গঠনে ঢাকা জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক) মো. তরিকুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. রুহুল কুদ্দুস, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি এম সাইফুল আলম, ডিবি দক্ষিণের ওসি সফিকুল ইসলাম সুমনসহ অনেকে।




