সাদুল্লাপুরে জুয়াড়িকে আটক, এমপির নির্দেশে ছাড়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। ঘটনাগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর এলাকার বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান আরিফিন ট্রেডার্সের ডিএসও তৌহিদকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেন। অভিযোগ, সাদুল্লাপুরের উজ্জ্বল নামের এক বিকাশ এজেন্টের সিম ব্যবহার করে মাত্র দুদিনে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা লেনদেন করেন তৌহিদ। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি অনলাইন জুয়ার লেনদেনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তৌহিদকে নেওয়া হয় সাদুল্লাপুর থানায়। তবে অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে রফাদফার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে থানার এএসআই আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তৌহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর কয়েক দিন পর ১৮ আগস্ট রাতে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চান্দেরবাজার এলাকা থেকে আবু সাইদ নামের আরেক ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, আটকের প্রায় চার ঘণ্টা পর তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।
দুজনকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে আটক করার পর আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলে আটকের কারণ কী?
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।






