প্রক্টরের পদত্যাগ অবাঞ্ছিত উপাচার্য, শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পদোন্নতির জটিলতা সিন্ডিকেট সভায় নিরসন না হওয়ায় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ফের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা।
আজ রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের পক্ষে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর মধ্যে শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। আজ রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন উপাচার্য বরাবর।
পদত্যাগের বিষয়ে রাহাত হোসাইন বলেছেন, উপাচার্যের কার্যক্রমে আমিসহ সহকর্মীরা হতাশ। উপাচার্য তাদের সবার হক নষ্ট করছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্যকে বারবার অনুরোধের পরও কোনো কাজ না হওয়ায় পদত্যাগ করছি।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন কোনদিকে যাবে, ক্লাস পরীক্ষা চলমান থাকবে কি না এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, শিক্ষক সমাজের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ এপ্রিল উপাচার্য সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিনদের ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্তক্রমে ৯ মে এর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী চলমান সব সংকটের সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম হঠাৎ করে ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে বেলা ১১টায় একটি এজেন্ডাবিহীন জরুরি সিন্ডিকেট সভা করেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সব সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে এবং অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে আরও গভীর সংকটে নিপতিত করেছেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের একটি সাধারণ সভায় উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলমকে ১১ মে সোমবার থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। চলমান ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও সভায় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল।
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষক আন্দোলন করে আসছেন ২১ এপ্রিল থেকে। শিক্ষকদের অভিযোগ, নানা সময়ে উপাচার্য আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। উপাচার্য বলেছেন, সংবিধি প্রণয়ন না করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়।
এর আগে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেছেন, আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তবে প্রক্টর আমাকে মৌখিকভাবে আজ সকালে জানিয়েছিলেন তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য।





